চট্টগ্রামে গতকালের সম্মেলনে যা বললেন হেফাজতের দুই শীর্ষ অভিভাবক

248

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতে মুসলমানদের উপর অব্যাহত নির্যাতন এবং দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোক ও সংগঠনের কর্মকাণ্ড মুসলিম বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা আহমদ শফী।

গতকাল বুধবার (২৪ জুলাই) উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন কর্তৃক মুসলিম শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ স্লোগান উচ্চারণ করিয়ে প্রসাদ খাওয়ানো, ভারজুড়ে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিয়ে মুসলমান হত্যা করা, ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার দেশবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী মিথ্যা নালিশ এবং পাঠ্যপুস্তক থেকে ডারউইনের বিতর্কিত ‘বিবর্তনবাদ’ বাতিল করার দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী হেফাজতের সভাপতি মাওলানা মীর ইদরীস নদভী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী প্রমুখ।

সমাবেশে হেফাজত আমীর আল্লামা আহমদ শফি বলেন, মোদি সরকার ভারতের মুসলমানদের উপর সীমাহীন যুলুম করছেন। যুলুমের পরিণাম কখনো ভাল হয় না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে হাদীসে বর্ণিত গাযওয়ায়ে হিন্দ আসন্ন। যে যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় সুনিশ্চিত। ভারতের মুসলমানদের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা।

প্রিয়া সাহা নিয়ে দেশের এ বর্ষীয়ান আলেম বলেন, তিনি একজন মিথ্যাবাদী নারী। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ইসকন প্রসঙ্গে হেফাজত আমীর বলেন, ইসকনের কর্মকাণ্ড দেশের শান্তি সম্প্রীতির জন্য হুমকি স্বরুপ। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে জরুরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর থেকে পূর্বের তুলনায় পুরো ভারতজুড়ে বিনা অপরাধে মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে।ক’দিন আগেও তবরিজ আনসারী নামক এক মুসলিম যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অনতিবিলম্বে ভারতজুড়ে মুসলমানদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ না হলে প্রয়োজনে সকলের সাথে পরামর্শ করে লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতাকে নিয়ে ভারত অভিমুখে লংমার্চ করা হবে।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, ১৯৯৩ সালে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর নেতৃত্বে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদে আমরা অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলাম।সে সময় আমাদের লংমার্চ ছিলো মসজিদ রক্ষার জন্য আর এবার লংমার্চ হবে মসজিদের মুসল্লী তথা মুসলমানদেকে উগ্রবাদী হিন্দুদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য।