প্রিয়া সাহার মিথ্যা নালিশ সংখ্যালঘু নাগরিকদেরই বেশি ক্ষতি করেছে: মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ

616

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ জানিয়েছে এ দেশেরই এক হিন্দু নারী প্রিয়া বালা সাহা। সেই নালিশের ভিডিও ভাইরাল হয়ে দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অপরদিকে গত কয়েকদিন আগে ইসকন নামে একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন চট্টগ্রামের কয়েকটি স্কুলে মুসলিম শিশুদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করে মুসলিম শিশুদের মুখে ‘হরে কৃষ্ণ- হরে রাম’ মন্ত্র জপিয়েছে। এ ঘটনা নিয়েও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

একশ্রেণির হিন্দু সংগঠন ও ব্যক্তির এ জাতীয় উসকানিমূলক ঘটনার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন মারকাযুদ্দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা’র রঈস ও মাসিক আল কাউসারের সম্পাদক, বিশিষ্ট ফকীহ মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ। ইসলাম টাইমসের পক্ষে তার সামনাসসামনি বসেছিলেন শরীফ মুহাম্মদ।

ইসলাম টাইমস: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রিয়া সাহা নামের এক বাংলাদেশি নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতিত ও নিখোঁজ হওয়ার আজগুবি অভিযোগ দিচ্ছে। পরে জানা গেছে, ওই নারী ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এ নিয়ে দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: প্রথম কথা হচ্ছে, প্রিয়া সাহা নামের নারী যেখানে অভিযোগ নিয়ে গিয়েছেন খবরে জানা গেছে, আরও বিভিন্ন দেশের কতিপয় লোক সম্প্রদায় ভিত্তিক নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে সেখানে গিয়েছে। তারা যার কাছে গেছেন সেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি নালিশ দেওয়ার যোগ্য পাত্র? তার নিজেরই তো এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা নেই। তার দেশের অভিবাসীদের তিনি নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। তার দেশের কয়েকজন কংগ্রেসম্যানকে তিনি দেশত্যাগ করতে বলছেন। তার বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে দুনিয়াজুড়ে সমালোচনা হচ্ছে। তার দেশের সৈনিকরা বিভিন্ন দেশে কী করছে সেটা আর এখানে না বললাম! সুতরাং যারা তার কাছে নালিশ জানাতে গিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব অভিযোগ শোনার নৈতিক অধিকার রাখেন কি না।

ইসলাম টাইমস:  প্রিয়া সাহা নামের হিন্দু নারী ট্রাম্পের কাছে তার অভিযোগে বলেছেন, প্রায় সাড়ে ৩ কোটি সংখ্যালঘু নাগরিককে বাংলাদেশে গুম করা হয়েছে। এখানে সংখ্যালঘুদের নানারকম অত্যাচার করা হচ্ছে। তার এই অভিযোগের বাস্তবতা কিংবা কারণ নিয়ে আপনি কি কিছু বলবেন?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ:  তার অভিযোগ যে হাস্যকর ও মিথ্যা, এটা নিয়ে বাংলাদেশের কোনো আলেমের আলাদা করে বলার কিছু নেই। ওই নারী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও গায়েব হয়ে যাওয়ার যে হিসাব দিয়েছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এখানে নিখোঁজ হয়েছে, তাহলে প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত? এখানে সয়খ্যালঘু নাগরিকের সংখ্যা ও অনুপাত কত? কোনো পরিসংখ্যান ও তথ্যের সাথেই তো এই তথ্যের মিল নেই। তাছাড়া এ অভিযোগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তথ্যজ্ঞান ও সচেতনতা নিয়েও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়। দেখা গেল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক পর্যায়ে সে নারীকে জিজ্ঞেস করলেন, কারা আপনাদের অত্যাচার করছে?’ কিন্তু তিনি জানলেন না বা জানতে চাইলেনও না সেখানে সংখ্যালঘু মোট কতজন আছেন? এই এতটুকু তথ্য তার বা তার লোকেদের না জানার কারণে তার সামনে দাঁড়িয়ে হাস্যকর রকম জঘন্য মিথ্যা বলে এল এক নারী, যা সারা বিশ্বের মানুষ এখন দেখতে পাচ্ছে। এটা একই সঙ্গে হাস্যকর ও ষড়যন্ত্রমূলক।

ইসলাম টাইমস: অনেকেই বলছেন, প্রিয়া সাহার এই নালিশ রাষ্ট্রদ্রোহমূলক। আপনি কী বলেন?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: এ ধরনের নালিশকে শুধু  ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক’ বললে আসলে কম বলা হয়। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মামলায় দেখা যায়, অনেক হালকা বিষয়কেও অনেক সময় ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলা হয়। এজন্য বলব,  এটা শুধু রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য নয় এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। এভাবে তারা রাষ্ট্রটিকে অকার্যকর করতে চায়। বিদেশি প্রভুদের এখানে আক্রমণকারী হিসেবে ডেকে আনতে চায়। ওই নারীর ধর্মপরিচয় এবং পার্শবর্তী রাষ্ট্র ভারতে বিভিন্নভাবে যে হারে মুসলিম নির্যাতন করা হচ্ছে, নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার আয়োজন চলছে, এতে অনেক চিন্তাশীল মহল এখন এসবের মধ্যে কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাবেন। ওই নারীর নালিশে বাস্তবে কতটুকু কী হবে তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে,  কিন্তু এজাতীয় নালিশের পেছনে সেই নারী যে একা নেই, বরং তার পেছনে আরও লোকজন, আরও আয়োজন রয়েছে, সেটা বোঝা যায়।  অনেকেই অনুমান করছেন এসবের লক্ষ্য দেশকে বড় কোনো সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া।

ইসলাম টাইমস:  মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহার সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ আর ক’দিন আগে ইসকন নামের একটি হিন্দু সংগঠনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি স্কুলের শিশুদের প্রসাদ খাওয়ানো ও ‘হরে কৃষ্ণ- হরে রাম’ মন্ত্র জপানো- এই দুই বিষয়ের মাঝে আপনি কোনো যোগসূত্র খুঁজে পান?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ:  আগের প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছি আমি। আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে মুসলিম নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা আপনি দেখবেন ‘জয় শ্রী রাম’ না বলার কারণে কিংবা গরুর গোশত রাখার গুজব তুলে মানুষকে পিটানো হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। ওই দেশের এসব ঘটনার সঙ্গে অদ্ভুদ মিল পাবেন বাংলাদেশের এসব ঘটনার। ওই দেশে ‘জয় শ্রী রাম’ না বলার ‘অপরাধে’ হত্যা করা আর এই দেশে ইসকনের উদ্যোগে স্কুলে প্রসাদ বিতরণ করে খাওয়ার আগে কোমলমতি শিশুদের মুখে হিন্দু দেব-দেবীদের জয়ধ্বনি উচ্চারণ করানো প্রায় একই রকম বিষয় মনে হয়েছে। ভারতে মানুষকে পিটিয়ে দেবতাদের জয়ধ্বনি দেওয়ানো হচ্ছে আর বাংলাদেশে খাদ্য বিতরণ করে দেব-দেবীদের নামে জয়ধ্বনি তোলানো হচ্ছে।  ঘটনা এবং ঘটনার লক্ষ্যে মিল পাওয়া যায়।

আরেকটা ব্যাপার হলো, প্রসাদ কেন তারা মুসলমান শিশুদের খাওয়াতে যাবে? প্রসাদ তো একান্তই হিন্দু দেব-দেবীদের সাথে জড়িত একটি খাদ্য। এটাতো কোনোভাবেই মুসলমানরা খেতে পারে না। আমি আগেও বহুবার বলেছি, মুসলমানদের জন্য অপর ধর্মের ধর্মীয় বিষয়ে কোনোভাবেই অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সাধারণ সদাচার ও সহাবস্থান এক জিনিস আর অপর ধর্মের পূজা-উপাসনা ও শিরকের বিষয়গুলোর সাথে নিজেকে মিশিয়ে-মিলিয়ে ফেলা আরেক জিনিস। এধরণের প্রসাদ মুসলমান শিশুদের মধ্যে বিতরণ কোনোভাবেই উচিত হয়নি। মূলত, প্রিয়া সাহার নালিশ, বিভিন্ন স্কুলে ইসকনের প্রসাদ বিতরণ আর ভারতে ‘জয় শ্রী রাম’ না বলায় মুসলমান হত্যা-এই বিষয়গুলোকে শুধু আমি নই অনেকের কাছেই একই রকম ঘটনা ও বিষয় মনে হতে পারে। এখানে যোগসূত্র খুঁজতে হয় না। এমনিতেই তৈরি হয়ে আছে। সচেতন অনেকেই এভাবেই পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইসলাম টাইমস: এই নালিশের ক্ষেত্রে প্রিয়া সাহার একার নাম উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু সে তো বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেত্রী। এ-জাতীয় নালিশের ক্ষেত্রে ওই সংগঠনের কি কোনো ভূমিকা নেই!  আপনার কী মনে হয়?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ:  একটি সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, ওই সংগঠনের প্রধান নেতা রানা দাশ গুপ্ত বলেছেন, ট্রাম্পের কাছে দেওয়া নালিশ প্রিয়া সাহার নিজস্ব বক্তব্য। রানা দাশগুপ্তের এ কথার অর্থ দাড়ায়, প্রিয়া সাহা তেমন কোন খারাপ কথা বলেননি। প্রিয়া সাহা যে একটি মারাত্মক অপরাধ করেছেন, এটি তারা বলছেন না কেন? তৎক্ষণাৎ তারা কেন তাকে তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করলেন না? শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন না? প্রিয়া সাহার বক্তব্য প্রত্যেখ্যান করলেন না? এসব তো নিয়ম অনুযায়ী তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আসলে আমি রানা দাশ গুপ্তের এ বক্তব্যে মোটেও অবাক হইনি। কারণ আপনি গত তিন-চার দশকে এই সংগঠনের ভূমিকা লক্ষ করলে দেখবেন, তারা শুধু মার্কিন মুলুকে কেন, এ দেশেও বিভিন্ন সময় সভা-সেমিনারে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ক্ষেত্র তৈরি করতে চেয়েছে। জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে। সংখ্যালঘু অনেক নাগরিকও তাদের এ জাতীয় আচরণ ও বক্তব্যে বিরক্ত হয়ে তাদের থেকে দূরে সরে থেকেছে। সুতরাং রানা দাশগুপ্ত ট্রাম্পের কাছে দেওয়া নালিশকে ওই নারীর একার বক্তব্য বললেও এই সংগঠনের পূর্বাপর আচরণে এটা পরিস্কার যে, এই নারীর বক্তব্যের সঙ্গে তাদেরও সম্পর্ক ও সহযোগিতা রয়েছে, তাদের অবস্থান ও দাবি-দাওয়ার মিল রয়েছে। আর যদি বক্তব্য ওই নারীর একারই হতো, তাহলে তাকে কেন ওই সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হলো না? এবং এখনো হচ্ছে না? তারা কেন ওই নারীর শাস্তি দাবি করছে না?

দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গত কয়েক দশকে দেখেছি, এ জাতীয় সংগঠনগুলোকে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক আপন মনে করে এসেছেন। এদের পরিপালন করেছেন। এদের ভাষায় কথা বলেছেন। অথচ এরা যে বিষফোঁড়া হয়ে উঠতে পারে-সচেতন মহল অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন। আজ  এই শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পিছনে দেশের প্রভাবশালী একশ্রেণীর নাগরিক দায়ী কি না ভেবে দেখা দরকার। আজ তাদের বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন-এমন অনেকেই এক সময় এই সংগঠনকে সমর্থন দিয়ে গেছেন, তাদের পাশে থেকেছেন।

ইসলাম টাইমস: স্কুলে প্রসাদ বিতরণ করে মুসলিম শিশুদের মুখে ‘হরে কৃষ্ণ-হরে রাম’ মন্ত্র জপানো আর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরার মতো চক্রান্ত প্রতিরোধে করণীয় কী? রাষ্ট্র, সরকার, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম কী ভূমিকা রাখতে পারে?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: এসব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে একেক গোষ্ঠী বা পর্যায়ের পদক্ষেপের ধরণ একেক রকম। রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। সজাগ ও কঠোর ভূমিকা পালন করা। অন্য ধর্মের অবমাননা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্যের বিষয় জড়িত থাকে এসব ক্ষেত্রে। এগুলো লংঘন হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিচারের সম্মুখিন করা। নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমেরও এসব ক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা থাকা দরকার। অনেক সময় দেখা যায়, গণমাধ্যম অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে একটি ঘটনার গভীর ও গোড়াকে সামনে আনতে সক্ষম হয়। এসব ক্ষেত্রেও তারা সেটি করতে পারেন। এখানে রাষ্ট্রের দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা-বিশৃঙ্খলা ও বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহাবস্থান স্বাভাবিক থাকা নির্ভর করে। তাই তারা সচেতন ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা অন্যরকম। আমরা দেখে এসেছি, এদেশের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো মুসলিম-অমুসলিমদের ‍বিষয়ে ভাগ করে ‍দ্বিমুখি নীতি গ্রহণ করে থাকে। মুসলমানদের সাথে এক রকম, অমুসলিমদের ক্ষেত্রে অন্যরকম আচরণ করে। এটা ক্ষতিকর। নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল, ন্যায়ানুগ ভূমিকা অনেক গুরত্বপূর্ণ।

ইসলাম টাইমস: সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রিয়া সাহা রাষ্ট্রদোহিতার অপরাধ করেছেন। আপনি কি মনে করেন, এখন ওই নারীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতার মামলা করা উচিত?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: অবশ্যই মামলা হওয়া উচিত। এবং নিয়ম হলো, রাষ্ট্রদোহিতার মামলা সরকারের অনুমতি ছাড়া হয় না। সরকারের উচিত, নিজ উদ্যোগে মামলা করা। এবং মামলা করার জন্য অনুমতি দেওয়া। এতবড় ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার জন্য অভিযুক্ত ও অপরাধীদের বিচারের সম্মুখিন করা। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, এঘটনায় সেই নারী একা নন, আরও লোক ও শক্তি যুক্ত থাকতে পারে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে সাধারণত অনেকেই যুক্ত থাকে। তাই তার পেছনে কে কে আছে, তদন্ত করে সবাইকে ধরার পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

ইসলাম টাইমস: কেউ কেউ মনে করেন, হিন্দু সংগঠন ইসকনের ষড়যন্ত্রমূলক আচরণ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ দেওয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ উচুঁ করা, প্রতিবাদ-প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং এ সবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থানের পরিপন্থি। আপনি কী মনে করেন?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ: এসব ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহাবস্থানের প্রতিবন্ধক তো নয়ই, বরং এ জাতীয় পদক্ষেপ ইতিবাচক। সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরি করে যেসব আচরণ ও পদক্ষেপ, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায় থেকে পদক্ষেপ নেওয়াই উচিত। বাংলাদেশের যে হিন্দু নারী মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে মিথ্যা অভিযোগ ও নালিশ দিয়েছে, সে তাতে বরং সংখ্যালঘুদেরই ক্ষতি করেছে। এ জাতীয় কথার প্রতিবাদ সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকেও জোরালোভাবে আসা উচিত। এ জাতীয় উসকানিমূলক আচরণ ও ঘটনার যথাযথ বিচার ও প্রতিরোধ করলে মানুষের মাঝে সহাবস্থান আরো সুসংহত হবে।