সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রীর বক্তব্য অসার প্রমাণ: ‘পশ্চিমা সভ্যতাই ইসলামের কাছে ঋণী’

284

ইসলাম টাইমস: বরিস জনসন। সাবেক ব্রিটিশ পরারষ্ট্রমন্ত্রী। বেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর  বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী।

সম্প্রতি এক ভাষণে ব্রিটিশ এ রাজনীতিক ‌ইসলাম ও মুসলমানদের ঐতিহ্য ও অবদান নিয়ে চরম অবমাননাকর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইসলামি শাসন ও মুসলমানরা পৃথিবীকে কয়েক শতাব্দী পেছনে নিয়ে যাচ্ছে। বক্তব্যে তিনি ইসলামের খেলাফত ব্যবস্থা বিশেষত উসমানি সালতানাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে ‌‌‘পশ্চিমা সভ্যতা ইসলামের কাছে ঋণী’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৃটেনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা। যেখানে বৃটেনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত প্রকাশ করা হয়েছে ইসলামের পক্ষে।

ড. কল্ম গ্লিস বলেন, ইসলামিক সভ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করে বরিস চরম অন্যায় করেছেন। ইসলামি শাসনের স্বাধীন, সার্বজনীন বিচার-ব্যবস্থার প্রতি পৃথিবী সর্বকালেই মুখাপেক্ষী। মুসলমানদের খেলাফত ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকাকালে যে শান্তি,শৃঙ্খলা তাদের মাঝে ছিল তা জানা থাকলে কেউ পৃথিবীতে তাদের অবদান নিয়ে সন্দেহ করতে পারে না। এটা ঠিক যে, মুসলমানরা বিচারিক পদ্ধতিতে অনেক খ্রিস্টান, ইয়াহুদিকে হত্যা করেছে তবে তার অধিকাংশই ছিল আইনত সিদ্ধ। আর নির্মাণ, স্থাপত্য ও উদ্ভাবনে তাদের অবদান তো প্রকাশ্য ব্যাপার।

বরিস জনসন

পেটার লোমাস বলেন, মুসলমানদের অবদান-ঐতিহ্য নিয়ে কটাক্ষ করার আগে স্পেনের আলহামরা প্রাসাদ, কর্ডোভার শাহী মসজিদসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের স্থাপত্যকলা দেখে নেওয়া উচিত। ভুলে যাওয়া উচিত নয়, মুসলমানরা যখন চিকিৎস্যাবিদ্যার নতুন নতুন ধারা আবিষ্কার করছিলো, ইউরোপ তখন অন্ধকারে ছিল। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পরাজিত খ্রিস্টানদের সাথে মুসলমানদের কেমন সদয় আচরন ছিল তা মনে রেখে ইরাক, সিরিয়ায় তাদের সাথে কেমন ব্যবহার করা হচ্ছে তাও ভেবে দেখা উচিত।

পোল ডলান বলেন, বরিস জনসনের বক্তব্য সমর্থনের কোনো অবকাশই আর রইলো না। ( আমার ধারণা তিনি হয়ত বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন) ইংল্যান্ডের বিখ্যাত আরবি অধ্যাপক জিম আল খলিলির কাছে আমার আবেদন থাকবে স্থাপত্যবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, মুদ্রণশিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে মুসলমানদের যে অবদান তা নিয়ে একটি ডুকুমেন্টারি তৈরি করবেন। যেন মানুষ বুঝতে পারে মুদ্রণশিল্প ও মেডিসিনে পশ্চিমা সভ্যতার বর্তমান যে উন্নয়ন মুসলমানরাই একদিন তার ভিত গড়ে দিয়েছিলো।

লন্ডনের জন হেপার্থ বলেন, বরিসের বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, বৃটেনের ইতিহাসসহ সাধারণ ইতিহাসও তিনি জানেন না। তার উচিত তার সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষকের কাছে ‘ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড হিস্ট্রি’ নিয়ে গভীর অধ্যয়ন করা। আমার সন্দেহ হয় পৃথিবীর ভাষাসমুহের ব্যাপারে তার কোনো ধারনাই নেই। বিখ্যাত আরব মুসলিম দার্শনিক ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমা সম্মন্ধে তার কোনো খোঁজ নেই- তা কখন এবং কী নিয়ে লেখা হয়েছে! সেজন্যই তার এমন আজগুবি বক্তব্য।

অক্সফোর্ডের প্রফেসর ব্রুচ রস স্মিথ, বলেন, মুসলমানদের ঐতিহ্য-অবদান নিয়ে এধরনের মন্তব্য সত্যিই বিস্ময়কর এবং হতাশজনক। এ মন্তব্য করার আগে চৌদ্দ শতকের আরব ইসলামিক স্কলার ইবনে খালদুনের আল-মুকাদ্দিমা পড়ে নেয়া উচিত ছিল। বরিসের পূর্বপুরুষ ঐতিহাসিক স্যার অরনাল্ড ইবনে খালদুনকে বিশ্বের সেরা ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, – এতে কোনো সংশয় নেই যে, ইবনে খালদুন পাশ্চাত্য এবং মুসলিম স্কলার হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। বরিসের উচিত ছিল ইবনে খালদুন তার মুকাদ্দিমায় কী আলোচনা করেছেন তা পড়ার পর মুসলমানদের ব্যাপারে মন্তব্য করা।

অনুবাদ : তারেক রহমান