সরকারি মিশনে সিইসির হজ্ব: উঠছে নানা সাংবিধানিক প্রশ্ন

122

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সরকারি হজ্ব মিশনের ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত ১০ সদস্যের একজন হয়ে কে এম নূরুল হুদা এবার হজ্বে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থেকেও কীভাবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্ব করতে যান এটা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান লেখেছেন, হজব্রত পালন এবং হজের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া দুটি আলাদা বিষয়। সরকারি খরচে হজব্রত পালন মানেই জনগণের টাকায় হজ করা। শত ভাগ ভোট পড়াকে সিইসি যেমন যথার্থই ‘অস্বাভাবিক’ বলেছেন। তেমনি সরকারিভাবে তার দ্বারা হজের তত্ত্বাবধান অস্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন,  সিইসিকে যুক্ত করা প্রস্তাবিত উচ্চপর্যায়ের হজ মিশন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। সরকারি খরচে হজ পালনকে আমাদের মতো দেশে একটা রক্ষণশীল বিষয় হিসেবে দেখা হয়। আমাদের জিডিপির উন্নতি ঘটেছে বলে সরকারি খরচে অবস্থাপন্নদের হজে পাঠানো অগ্রহণযোগ্য। সিইসির উচিত হবে ব্যক্তিগত খরচে হজ পালন করা। তিনি তা না করলে একটি নীতিমালা তৈরি করে নিতে হবে। কারণ, সিইসি হিসেবে তার হজের খরচ সরকার বহন করলে অন্যান্য কমিশনারের কী হবে! আরও প্রশ্ন আছে। দেশে সাংবিধানিক পদধারীদের মোট সংখ্যা এবং তারা কী নিয়মে, কবে কীভাবে সরকারি হজ মিশনে যাবেন, সেই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক।

দেশের এই বিশিষ্ট সাংবাদিক বলেন,  যদি একজন সাংবিধানিক পদধারী হজ ব্যবস্থাপনায় নিজেকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারীও তা করতে পারেন। এটা শোভন কি না। এটা নৈতিক কি না। একটা হতে পারে বিষয়টি সিইসির ক্ষেত্রে ওয়ান টাইম এক্সসেপশন বা একমাত্রবারের জন্য ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে। অন্যরা কখনো একে নজির হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সিইসির বিষয়ে আমাদের একটা নিশ্চয়তা পেতে হবে। জনগণকে জানতে হবে যে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার গ্যারান্টি না দিতে পারলেও হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গ্যারান্টি দিচ্ছেন। বিমান ও পাটকলের মতোই একটা লোকাসানি কিংবা মলিন ভাবমূর্তি আমরা যেন কিছুতেই হজ ব্যবস্থাপনা থেকে মুছে ফেলতে পারি না।

‘সংবিধানে আছে সিইসির নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন তত্ত্বাবধান করবেন। তাহলে এখন তিনি হজ তত্ত্বাবধান করলে তা অসাংবিধানিক হবে। সংবিধান বা রুলস অব বিজনেস সংশোধন ছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপনে তো তাকে হজ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা কেউ লিখতে পারবেন না। তা আইনগতভাবে সিদ্ধ হবে না। ভোট তত্ত্বাবধায়ক থেকে ‘হজ তত্ত্বাবধায়ক’ বনে যাওয়ায় রুলস অব বিজনেস লঙ্ঘিত হবে। তার সফরের খরচের টাকা মহাহিসাব নিরীক্ষক হয়তো আটকে দিতে পারেন। দেবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন’।

‘একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, রুলস অব বিজনেস, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত, নৈতিকতা এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক রীতিনীতি বলে কিছু বিষয় রয়েছে। এটা থাকতেই হবে এবং তা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে কিংবা তেমনটা দেখা দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হবে’।