গাছ বিক্রির টাকায় হজ্ব করছেন গাইবান্ধার এক হাজি

454

মুহাম্মাদ মাসরুর ।।

একজন হাজি সাহেব। বয়সে বৃদ্ধ। এসেছেন হজ্বে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে। হোটেল লবিতে বসে কথাবার্তা বলছি। খুব আবেগী মনে হলো।

জানতে চাইলাম, কি কাজ করেন বাড়িতে?

-ক্ষেত-খামার করি।

-আচ্ছা! তাহলে হজ্বে আসলেন কীভাবে?

উত্তর দিলেন, বাবা! ১৮ বছর আগে হজ্বের ইচ্ছা করি। কাবা ঘরটা দেখার শখ ছিলো অনেক। হজের উদ্দেশ্যে ১৮ বছর আগে জমি ও ক্ষেতের আইলে ইউক্যালিপটাসসহ কিছু গাছ রোপন করি। হজ করার আশা নিয়ে গাছের পরিচর্যা করতে থাকি। গাছগুলো বড় হয়। এবার সে গাছগুলোর বেচা টাকা দিয়েই হজে আসলাম।

আমি বললাম, মাশাআল্লাহ। আপনার হজের টাকাটা কত পিওর! কোন হারামের মিশ্রণ নেই। সম্পূর্ণই পরিশ্রমের টাকা।

হাজি সাহেব বলেন, আরেকটু শুনুন!

-গাছগুলো বড় হওয়ার পর, প্রায়ই যখন রাত হতো, মানুষ ঘুমিয়ে পড়তো, আমি গাছগুলোর কাছে যেতাম। গাছ ধরে ধরে কাঁদতাম, দোয়া করতাম। আল্লাহ যেন আমাকে হজে নিয়ে যান।

-একটা গাছের বয়স আঠারো। সেটি বেচে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় হলো। দেরি না করে সেই টাকা দিয়েই হজের রেজিস্ট্রেশন করে ফেলি। এরপর প্রথমে ২২টা। তারপর ২০ টা গাছ বিক্রি করে হজের টাকা সংগ্রহ করি। কাঁদোকাঁদো হয়ে গেলেন। বললেন, আল্লাহই আমারে নিয়ে এসেছেন।

এরপরে আরও অনেক কথা হলো। আমি কাছ থেকে নিখাদ হৃদয়ের মানুষটাকে দেখতে থাকলাম। ভাবলাম, এসব হাজিদের হজ কবুল হতে আর কত দেরি!

 ফেসবুক থেকে সংগৃহিত