এরশাদকে রংপুরে সমাহিত না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

152
সোমবার রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ।

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: উত্তরাঞ্চলের মানুষের শরীরে একফোটা রক্ত থাকতেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমাধি কোনো সংরক্ষিত এলাকায় হতে দেবে না। তার ওছিয়কৃত স্থান রংপুরের পল্লী নিবাসেই এরশাদকে সমাহিত করতে হবে। মঙ্গলবার এরশাদের লাশ রংপুরে আসার পর সেটি যদি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করা হয়, তবে রংপুরের লাখ লাখ মানুষের লাশের ওপর দিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

সোমবার রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় জাতীয় পার্টির যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য, মহানগর সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, উন্নয়ন অগ্রগতি ও পরমত সহিষ্ণু রাজনীতির চেতনার বাতিঘর এরশাদকে মৃত্যুর আগেও শৃংখলিতকরে রাখা হয়েছিল। সে কারণে মৃত্যুর সময়েও তার নামে ঝুলেছে দুটি মিথ্যা মামলা। তার মৃত্যুর পরেও তাকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে জাতীয় পার্টিকে ধংসের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করার অপচেষ্টা চলছে। রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষ এই ষড়যন্ত্রকে কোনভাবেই মানবো না।

প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা বলেন, আমরা ঢাকায় খোলা স্পেসে তাকে সমাহিত করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা এরশাদের দেয়া জাতীয় তিন নেতার মাজারের পাশে অথবা সংসদ ভবনের পাশে আসাদ গেট এলাকায় মশিউর রহমান যাদু মিয়ার কবরের পাশে জায়গার জন্য সরকারকে বলেছিলাম। কিন্তু সেটা সরকার দেয়নি। বরং তাকে সেনানিয়ন্ত্রিত বনানী কবরস্থানে কবরস্থ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

মেয়র মোস্তফা বলেন, বনানী কবরস্থানে সমাধি দেয়ার মাধ্যমে এরশাদকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে যদি জাতীয় নেতার মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় আমাদের প্রস্তাবিত খোলা স্পেসে সমাধি দেয়া হতো, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু যেহেতু তা করা হচ্ছে না, সে কারণে রংপুরেই এরশাদকে সমাহিত করতে হবে। এটা আমাদের একদফা দাবি।