দরুদ শরীফ : দুআ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম

414

 মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ।।

আমার শায়খ আবদুল হাই আরেফী রাহ. বলেন, কেউ কোনো পেরেশানী বা বিপদগ্রস্ত হলে কিংবা কোনো রোগ বা অন্য কোনো প্রয়োজনে পড়লে তার উচিত প্রথমে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা যে, হে আল্লাহ! আপনি আমার এই প্রয়োজন পুরা করে দিন। আমার এই পেরেশানী, বিপদ, মুসিবত দূর করে দিন। এই অসুস্থতা থেকে আমাকে মুক্তি দান করুন। সেইসঙ্গে এমন ব্যক্তির জন্য আজ আমি এমন একটি আমলের কথা বলবো, আশা করা যায় এর উসিলায় আল্লাহ তায়ালা তাকে এই ধরনের সংকট থেকে উদ্ধার করবেন এবং তার প্রয়োজন পুরণ করবেন।

আমলটি হলো, খুব বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পড়া। ইনশাআল্লাহ দরূদ শরীফের উসিলায় আল্লাহ তায়ালা বান্দার সমস্ত পেরেশানী দূর করে দিবেন। কারণ, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীগ্রন্থগুলোতে এ কথা পাওয়া যায় যে, কোনো ব্যক্তি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো কিছু হাদিয়া দিত নবীজী তাকে তার চেয়েও উত্তম হাদিয়া দেওয়ার চেষ্টা করতেন। যেন হাদিয়ার যথাযথ মূল্যায়ন হয়। নবীজীর পুরো যিন্দেগীতে এই আমল পাওয়া যায়।

তো এই দরূদ শরীফও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে পেশকৃত হাদিয়া। যেহেতু নবীজীর পুরো যিন্দেগীজুড়ে এই আমল ছিলো যে, তিনি হাদিয়াদাতাকে তার চেয়েও উত্তম হাদিয়া দিতেন। তাই আজ যখন ফেরেশতাগণ নবীজীর খেদমতে দরূদ শরীফ পৌঁছে দেবেন তখন তো এমনই হওয়ার কথা যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিয়ার জবাবেও হাদিয়া দেবেন।

সেই হাদিয়া কি হবে? তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করবেন যে, হে আল্লাহ! আপনার ওই বান্দা আমার জন্য এই হাদিয়া পেশ করেছে আপনি তার যা কিছু প্রয়োজন পুরা করে দিন। এখন তো আমরা নবীজীর কাছে দুআ চাইতে পারি না। নবীজীর কাছে দুআর আবেদন করার কোনো পথ তো এখন নেই। তাই দরূদ শরীফের মাধ্যমে আমরা আমাদের সেই তামান্না পুরা করতে পারি। অর্থাৎ যখন আমরা খুব বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করবো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য দুআ করবেন।

অতএব দরূদ শরীফ পাঠ করার এই সুন্দর ও সহজ সুযোগ আমাদের গ্রহণ করা উচিত। এজন্যই অনেক বুযুর্গ মনীষীর জীবনীতে পাওয়া যায় যে, তাঁরা অসুস্থ বা বিপদগ্রস্থ হলে খুব বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করতেন। তো আমরা দিনে কমপক্ষে একশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করতে পারি।

যদি দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করার সুযোগ হয় খুব ভালো। অন্যথায় সংক্ষিপ্ত যে কোনো দরূদ শরীফ পাঠ করতে পারি। যেমন একটি দরুদ শরীফ হলো- اَللّٰہُمَّ صَلِّ عَلٰی مُحَمَّدٍن النَّبِیِّ الْأُمِّیِّ وَعَلٰی آلِہٖ وَأَصْحَابِہٖ وَبَارِکْ وَسَلِّمْ۔ আরো সংক্ষিপ্ত একটি দরুদ শরীফ হলো- اَللّٰہُمَّ صَلِّ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّسَلِّمْ অথবা শুধু صلی اللہ علیہ وسلم ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ পড়ে নিতে পারি। তবু যেন কমপক্ষে একশ বার পড়ি। এর মাধ্যমে আজর ও সাওয়াবের বিরাট অংশ যেমন জমা হবে তেমনি আশা করা যায় আল্লাহর রহমতে সকল সংকট ও মুসিবত থেকেও উদ্ধার পাওয়া যাবে।

–সূত্র : ইসলাহী খুতুবাত, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৯৩

অনুবাদ : তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব