ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে আমিরাত

72

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইয়েমেন থেকে পিছু হটছে সৌদি সামরিক জোটের হয়ে লড়াইরত সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখান থেকে আমিরাতের সৈন্য প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিজ দেশে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেওয়ায় এ উদ্যোগ আরব আমিরাতের। খবর ইয়েনি শাফাক।

সোমবার আমিরাত বলেছে, ইয়েমেনে সৈন্য কমিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে ‘মিলিটারি ফার্স্ট কৌশল’ থেকে বেরিয়ে ‘সবার আগে শান্তি কৌশলের’ দিকে অগ্রসর হবে তারা।

পশ্চিমা বিশ্ব সমর্থিত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের নেতৃস্থানীয় সদস্য হিসেবে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আমিরাত বলছে, আন্তর্জাতিক বিশ্ব সমর্থিত ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দু রাব্ব মনসুর আল হাদির প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের এ দেশটি ইতিমধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেন ও পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে কিছু সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেছেন, রিয়াদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইয়েমেন থেকে সৈন্য কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে নেয়া হয়নি।

দুবাই আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানায়, ‘আমাদের আলোচনা শেষ হয়েছে। সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে পুনরায় মোতায়েনের ব্যাপারে এক বছর ধরে আলোচনা চলছে। গত বছরের ডিসেম্বরে স্টকহোম চুক্তির পর সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

এদিকে ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক হামলার পর গত বছরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানায়, দেশটি মারাত্মক দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বর্তমানে ইয়েমেনের দুই কোটি ৪০ লাখ লোকের জন্য মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। গত বছর সেখানে কলেরা মহামারী দেখা দিলে ১০ লক্ষাধিক লোক এতে আক্রান্ত হন।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো এক বিবৃতিতে বলেছে, এক কোটি ৪০ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। এর আগে কখনও এতটা জরুরি অবস্থা ছিল না।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে চলা সংঘাতে ইয়েমেনের অসংখ্য স্থাপনা, হাসপাতাল, স্কুল ও কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির ৮৪ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্য ঝুঁকিতে রয়েছে।