স্বাধীন আলজেরিয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে যে নারীর আত্মদান

271
 ইয়াসীন ডুয়ের ।।
নিচের ছবিটিতে আলজেরিয়ার ১৫ অক্টোবর ১৯৫৭ সনের একটি দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ছবিটির আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকামী বীরাঙ্গনা নারী জুলেখা সায়েবার।
 
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ফ্রান্সের হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সাথে তাকে বেঁধে রেখেছে। গাড়ির সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে আলজেরিয়ার রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটু আগে ছবিটি তোলা হয়।
 
এরআগে ফ্রান্সের হানাদার বাহিনী আলজেরিয়ার নাগরিকদেরকে লাউড স্পিকারের মাধ্যমে সতর্ক করেছিল যে, যারা ফ্রান্স হানাদার সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে, এটিই হবে তাদের পুরস্কার। এক্ষেত্রে ফ্রান্স কারো উপরে কোন দয়া করবে না। এমনকি কোন নারীর উপর কোন দয়া করবে না।
 
এই বীরাঙ্গনা নারী গাড়িতে বেঁধে টানা হেঁচড়া করার সময় একটু চিৎকার করেননি। কোন কথা বলেননি। শুধু নিরবে নির্যাতিত হয়েছেন। দশ দিন লাগাতার তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
 
দশ দিন পর ফ্রান্সের হানাদার বাহিনী তাকে হেলিকপ্টার থেকে ফেলে শহীদ করে দেয়।
 
তার মৃতদেহ ১৯৮৪ সালের আগ পর্যন্ত তার লাশের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম আলজেরিয়ার এক কৃষকের বলেন যে তিনি একটি নারী মৃতদেহ রাস্তার পাশে পেয়ে দাফন করেছিলেন। তখন তিনি আলজেরিয়ার কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তারা কেবলই কিছু হাড্ডি দেখতে পান।
 
জুলেখার শাহাদাতের পর ফ্রান্সের সেনাবাহিনী টের পায়, লক্ষলক্ষ আলজেরিয়ার নাগরিকদেরকে আর বেশী পরাধীন করে রাখা যাবে না। অবশেষে ৫ জুলাই ১৯৬২ সালে আলজেরিয়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বর্তমানেআফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আলজেরিয়া, যার শতকরা ৯৯ ভাগ অধিবাসী মুসলমান।
লেখকের ফেইসবুক থেকে অনুবাদ:
এনাম হাসান জুনাইদ