এমবিএসের দেশে: আলেমরা জেলে মরে, নিকি মিনাজ নৃত্য করে

1107

ড. আমিনুল হক  ।।

সৌদি আরব সম্পর্কে আমি কিছু লিখতে গেলেই একদল লোক আমার ওপর চটে যান। কেউ কেউ ধমক দেন। উনাদের ধমকি খেয়ে কিছু দিন চুপ মেরে থাকি। কিন্তু বেশী দিন চুপ করে থাকতে পারি না। জেগে উঠি আবার; বিবেকের তাড়নায় কলম ধরি।

গত বছর লিখেছিলাম পবিত্র হারাম শরীফের ইমাম সাহেবকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে। তখনকার পোস্টটি অনেকে সইতে পারেননি; আমার ওপর রাগ ঝেড়েছিলেন। যাইহোক ওইসব ভাইয়েরা আমার ওপর চটলেও এখন পর্যন্ত কাবা শরীফের সেই ইমামের খোজ দিতে পারেননি।

সালমান আওদাসহ প্রায় দুই শতাধিক দাঈ ইলাল্লাহ, খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন দুই বছরেরও বেশী দিন যাবত জেলে কষ্ট করছেন। অনেকের ভাগ্যে কী জুটছে বা কী জুটবে কেউ তা বলতে পারছে না।

খাশোগি হত্যার কথা সৌদি আরব শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছিলো। কিন্তু যখন প্রমাণ হাতে এল তখন ঠিকই স্বীকারোক্তি এলো- সৌদির লোকজনই তাকে মেরেছে। স্বীকারোক্তির সাথে সাথে খাশোগী খুনের জায়েজ ফতোয়াও এলো। রাষ্ট্রবিরোধী কাজে কেউ জড়িত থাকলে তাকে আরও জঘন্যভাবে হত্যা করা যায়।

সালমান আওদাসহ তিনজনকে রমজানের পর মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা বিশ্ব ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এতে কিছুটা ভড়কে যায় সৌদি আরব। এরপরই খবর এলো তাদেরকে বাদশা সালমান ক্ষমা করে দিবেন। আসলে ক্ষমা করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন নাকি এখনও জেলে আটক করে রেখেছেন এর সঠিক খবর আমাদের জানা নেই।

জুলাই মাসের শুরু থেকেই মক্কা নগরীতে হাজী সাহেবগণ যাওয়া শুরু করেছেন। শতকরা ৮০ ভাগ হাজী প্রবেশ করেন জেদ্দা বিমান বন্দর দিয়ে। জেদ্দা আলাদা শহর হলেও পবিত্র মক্কা অঞ্চলের অধীন। হাজিরা যখন পানি পথে আসতেন তখন তারা জেদ্দার বালাদ নামক স্থানে নেমে সোজা হারাম শরীফ চলে যেতেন। এখনও হাজীদের সেইসব চলার রাস্তাগুলোর স্মৃতি আছে। আছে নেম ফলকে লেখা- মাসারুল হুজ্জাজ তথা হাজীদের চলার রাস্তা। ওখানে হাওয়া আ. এর কবরও আছে।

আমি যে এলাকাতে থাকতাম সে এলাকাকে এখন বলা হয় মাতার কাদিম এলাকা অর্থাৎ- পুরাতন এয়ারপোর্ট। এখনও সেখানে হাজীদের জন্য বানানো পুরাতন রেস্ট হাউজগুলো পড়ে আছে। এর অর্থ হলো জেদ্দা-মক্কা পুরোটাই হাজীদের পবিত্র পদচারনায় মুখরিত এক শহর।

কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য; হাজীদের শহর এখন চলে গেছে নৃত্যকারীদের দখলে। যেই বন্দর ব্যবহার করে হাজীরা আসছেন হজ্জ করতে সেই একই বন্দর এখন উন্মুক্ত আমেরিকার  নিকি মিনাজের মতো বেহায়া অশ্লীল নর্তকীদের জন্য।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি আমেরিকার মূর্তি। মূর্তি পূজা, মূর্তির সম্মান, মূর্তির ব্যবহার মুসলিমদের ঈমান ও আকিদার সাথে যে যায় না সে কথা তো সৌদির মাশায়েখগণই সবচাইতে আওয়াজ দিয়ে এতদিন বলে এসেছেন। এখন আমরা কী দেখছি। স্ট্যাচু অব লিবার্টির রেপ্লিকা বসানো হয়েছে হাজীদের পদধুলিতে ধন্য সেই বালাদুন আমিন তথা জেদ্দা শহরে।

কিয়ামত সম্ভবত খুব কাছে এসেছে। এমবিএসরা খোদার গজব খুব দ্রুত পাওয়ার জন্য বোধহয় অস্থির হয়ে পড়েছে।

হে আল্লাহ, তুমি তোমার ঘরকে আব্রাহার হস্তি বাহিনী থেকে যেভাবে রক্ষা্ করেছিলে ঠিক আরেকবার আবাবিল পাঠাও পবিত্র হারামাইন শরিফাইনে। পাকসাফ করে দাও তাদের যারা তোমার পবিত্র নগরীকে অপবিত্র করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে….

লেখকের ফেইসবুক থেকে নেয়া