৪ জুলাইয়ের মুহাযারায় মাওলানা আবদুল মালেক যা বললেন

1072

৪ জুলাই বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব পল্লবী মারকাযুদ্দাওয়ার হলরুমে মাসিক মুহাযারায় বয়ান করেন মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়া ঢাকার আমীনুততালীম প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত নবীন আলেম ও মাদরাসার তালিবে ইলম এ মুহাযারায় উপস্থিত ছিলেন। মুহাযারায় শিক্ষা বছরের শুরুতে উচ্চতর উলুমের ছাত্রদের অধ্যয়ন ও পাঠ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোকপাতের সার সংক্ষেপ এখানে তুলে ধরা হলো।

 

নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু। তালিবুল ইলমদের উচিত নতুন উদ্দীপনা ও দৃঢ় হিম্মত নিয়ে বছরের শুরু থেকেই ইনহিমাকের (নিমগ্নতা) সাথে মুতালায়া শুরু করা। ইলমের খণ্ড খণ্ড বিষয়ে যারা নিত্য নতুন অপূর্ণাঙ্গ ‘গবেষণা পত্র’ পেশ করছে তাদের পেছনে না পড়ে আসলাফের রেখে যাওয়া ইলম থেকে পূর্ণ ইসতিফাদার চেষ্টা করা প্রত্যেক তালিবুল ইলমের কর্তব্য।

দিরাসাতে উলয়ার (উচ্চতর পাঠ) তালিবুল ইলমদের জন্য কোনো ফনের পরিচিত নির্দিষ্ট কিছু উৎসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত না। ‘গায়রে মাযন্ন’ ও ‘মাযন্নে বায়িদাহ’ তথা দূরবর্তী উৎসগুলোতেও অনেক সময় কোনো ফনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পাওয়া যায়। এই গায়রে মাযান্ন ও মাযান্নে বায়িদার ইলম হাছিল হবে যেকোনো কিতাবকেই ইনহিমাকের সাথে আগাগোড়া মুতালাআ করার দ্বারা।

আমাদের মাঝে পরিচিত ফনগুলোর পারস্পরিক কী সম্পর্ক উচ্চতর গবেষণায় লিপ্ত তালিবুল ইলমের জন্য এ ব্যাপারটা জানা অত্যন্ত জরুরি। উসূলুল ফিকহের সাথে উসুলূত তাফসীরের তাআল্লুক তো স্বীকৃত। আবার উসূলুল ফিকহের সাথে উসূলু ফিকহিল হাদীসের যে সম্পর্ক এগুলোর ব্যাপারেও দিরাসাতে উলয়ার তালিবুল ইলমদের জানা খুবই জরুরি।

শুধু উসূলের কিতাব পড়ার উপর সীমাবদ্ধ না থেকে তাতবীক তথা উসূলের আলোকে যে সকল কিতাব লেখা হয়েছে সেগুলোর দিকে মুরাজাআত করা (দেখা) উচিত। উদাহরণত, উসূলুত তাফসীর পড়ে জাসসাস রহ.-এর আহকামুল কুরআন পড়া উচিত। রসমুল মুফতি পড়ে দুররুল মুখতারে কীভাবে তার তাতবীক দেয়া হয়েছে তা পড়া এবং বুঝা জরুরি। এভাবেই একেকটি বিষয়কে বুঝতে বিভিন্ন বিষয়ের কিতাব দেখতে হবে।

 

ওলিউর রহমান