যুক্তি ও ইতিহাসের নিরীখে পাকমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘রাজনীতি থেকে ধর্মকে দূরে রাখা উচিত’

252
আলাউদ্দিন রফিক।।
কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনীতি ও ধর্ম নাকি দুটি আলাদা বিষয়। রাজনীতি থেকে ধর্মকে দূরে রাখা উচিত। (এক্সপ্রেস ট্রিবিউন,  ১৪জুন, ২০১৯)
 
এই ভদ্র লোকের আরও কিছু বিতর্কিত বক্তব্য আছে। আমি সেদিকে যেতে চাই না। আমি কেবল তার এ মন্তব্যটির উপরই কিছু কথা বলতে চাই।
 
কথাটি যদিও পাকিস্তানের একজন মন্ত্রীর মুখ থেকে বের হয়েছে, কিন্তু এমন কথা আজকাল ইংরেজি শিক্ষিতদের মুখ থেকে অহরহই শোনা যায়।
 
পশ্চিমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের শিকার কিছু লোক আজ মনে করে, যেহেতু ইউরোপ মধ্যযুগ পরবর্তী সময়ে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতায় উন্নতি সাধন করেছে, তাই জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি সাধন ও রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলমানদেরকেও রাষ্ট্রকে ধর্মের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে।
 
এই ভদ্রলোকদের ভুলের আসল কারণ হল তারা ইসলামকে খৃষ্ট ধর্মের সাথে তুলনা করছেন। কিন্তু তাদের বোঝা দরকার যে, ইসলামকে খ্রিস্টান ধর্মের সাথে তুলনা করা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ ইসলাম ও খৃষ্টবাদের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান।
 
ইসলামের ইতিহাস খৃস্টানদের ইতিহাস থেকে ভিন্ন
 
মধ্যযুগে খ্রিষ্টান রাষ্ট্রগুলোর শাসনকার্য ও নীতি নির্ধারণে যাজক শ্রেণি ব্যাপকভাবে হস্তক্ষেপ করে। তারা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ক্ষমতায় আসীন করে এবং যাকে অপছন্দ হতো তাকে ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত করে।
 
১০৮৫ খ্রিষ্টাব্দে পোপ সপ্তম জর্জ ঘোষণা করেন সমস্ত বিশ্বের উপর গীর্জার কর্তৃত্ব রয়েছে । এই ক্ষমতা সরাসরি ¯্রষ্টার পক্ষ থেকে শাসকদের দেয়া হয়েছে। পৃথিবীতে পোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বিশপ নিয়োগ দেন এবং অপসারণ করেন। শাসকদের অধিপতি হিসেবে তিনি তাদেরকে অপসারণ করার ক্ষমতা রাখেন। তিনি মানুষের কর্মের হিসাব নিতে পারেন। এবং তিনি কারো নিকট জবাদিহিতা করতে বাধ্য নন।
 
এভাবে যাজকগণ ভিন্ন এক অভিজাত শ্রেণিতে পরিণত হন। তাদের জন্য ছিল ভিন্ন বিচার ও কর ব্যবস্থা, বিশেষ সম্মান ও সম্পদ। ১২৯৬ সালে পোপ আদেশ জারি করেন যে, এখন থেকে কোন শাসককে আর কর দেয়া যাবে না। যারা কর গ্রহণ করবে তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হবে।
 
অধিকন্তু ধর্ম ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে গীর্জা কোনরূপ বিরোধিতা সহ্য করতে পারেনি। যারা প্রচলিত খৃষ্টবাদ ও গীর্জার মূলনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতো গীর্জা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করত। এভাবে তারা অনেক বসবাসের শহর এবং উদীয়মান নগর ধ্বংস করে দেয়। ওয়ালডু ও তার অনুসারীরা যাজকদের ভোগ বিলাসিতার সমালোচনা করার কারণে পোপের আক্রমণের স্বীকার হন। বর্বর ও অপরাধীদেরকে তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণে লেলিয়ে দেয়া হয়।
 
গীর্জা তাদের প্রতি নৃশংসতা ও গণহত্যা চালায়। তারা মার্টিন লুথার এবং প্রোটেস্ট্যান্টদের উপর আক্রমণ করে একদিনে প্রায় ১০০,০০০ প্রোটেস্ট্যানকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করে।
 
গীর্জা সন্দেহভাজন গোষ্ঠি যেমন মুসলমান, ইহুদি, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের আদর্শ, বিশ্বাস এবং গীর্জার প্রতি আনুগত্য ও আন্তরিকতা তদন্ত করার জন্য ‘নজরদারি আদালত’ প্রতিষ্ঠা করে। তারা চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং সংস্কারকদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। অনেককে পুড়িয়ে হত্যা করে, যেমন জন হুস (১৪১৫), জেরাম আল-বারগি, জোন অব অক এবং বুরোনো (১৫৮৯)। আবিলার্ড, রগার ব্যাকন, গ্যালিলিও সহ আরো অনেককে বন্দি করে রাখে। তাদের মধ্যে অনেকে বন্দি অবস্থায় মারা যায়। কাউকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। অন্যদেরকে দেশান্তর করা হয়।
 
ঐতিহাসিকদের মতে, ‘নজরদারি আদালত’ প্রতিষ্ঠার পর ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে অষ্টাদশ শতাব্দীতে তা বিলোপ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ মিলিয়ন মানুষ এই আদালতে বিচারের সম্মুখীন হয়। গীর্জা চিন্তাবিদ ও সংস্কারকদেরকে শুধু শারীরিকভাবে হেনস্থা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাদের দর্শন ও বইয়েও নজরদারি করে। বহু বই জ্বালিয়ে দেয় ও প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করে। যারা বলেছে, “পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে” বা “পাদ্রীদের মধ্যস্থতা ছাড়াই মানুষ নিজে নিজেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বুঝতে সক্ষম” তাদেরকে অবিশ্বাসী আখ্যা দেয়।
 
এই অমানবিক নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার সাধারণ পরিণাম ছিল গীর্জার বিরুদ্ধে গণ মানুষের বিস্ফোরণ। এই সমস্যা কোন খৃষ্টবাদ বা গসপেলের কারণে হয়নি, বরং এই সমস্যা হল নিষ্ঠুর, স্বার্থপর, বিলাসী, যীশুর শিক্ষার বিকৃতি সাধনকারী এবং ক্ষমতালোভী পাদ্রীদের কর্মের প্রতিফলন।
 
সর্বপ্রথম দ্বন্ধের সূত্রপাত ঘটে গীর্জা ও রাজার মধ্যে। পরবর্তীতে ১৩০১ খ্রিষ্টাব্দে বৃটেনের পার্লামেন্ট রাষ্ট্রনীতিতে পোপের হস্তক্ষেপ করার অধিকার খর্ব করে আইন পাশ করলে পার্লামেন্ট ও পোপের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৩০২ সালে ফ্রান্সের কাউন্সিল অব ন্যাশনাল ক্লাসেস এ ধরনের আরেকটি আইন পাশ করে।
লেখক, চিন্তাবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গীর্জাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। অবশেষে ১৭৮৯ সালে ফ্রান্স বিপ্লবের মাধ্যমে যাজকতন্ত্রের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।
 
এরপর ইউরোপ রাষ্ট্রকে ধর্মের প্রভাব মুক্ত করার জন্য কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করে। সেগুলো হল- রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা, রাষ্ট্রক্ষমতায় যাজকদের হস্তক্ষেপ নীতি রহিত করা, এবং শাসক ও ধর্মকে তাদের স্ব স্ব অধিকার ফিরিয়ে দেয়া।
 
পক্ষান্তরে ইসলামের বিস্তীর্ণ নিয়মনীতি খৃষ্টবাদ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে প্রকৃত খৃষ্টবাদ ¯্রষ্টা ও শাসকের অধিকার ভিন্ন ভিন্ন রাখার পক্ষে, সেখানে ইসলাম ধর্ম ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে একই সীমারেখায় এনে দাঁড় করিয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন সর্ম্পকে ইসলামের রয়েছে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। আর শাসকদেরকে সেই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি কোন শাসক ইসলামের এই সমস্ত মূলনীতি থেকে পরিপূর্ণ বা আংশিক বিচ্যুত হয়, তাহলে তাকে বিচার দিবসে মহান আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। সে জনগণের নিকটও দায়বদ্ধ থাকবে এবং জনগণ তাকে অপসারণ করতে পারবে।
 
যে মূলনীতিগুলো ইসলামকে ধর্ম হিসেবে পরিচিত করেছে :
 
ঐশ্বরিক মতবাদ : ইসলাম মানুষকে মহান আল্লাহর সাথে সমকক্ষতা, শরীক ও সাদৃস্যতাকে পবিত্র করে। হৃদয় কে কুসংস্কার ও আবিলতা মুক্ত করে। নিরেট একত্ববাদের দিকে আহবান করে, আল্লাহর শরীক, সমকক্ষতা ও সাদৃশ্যতা থেকে পবিত্র করে।
 
নির্ভেজাল ইবাদত : যা আত্মাকে মহিমান্বিত করে, চরিত্রকে মার্জিত করে এবং আমলকে পরিশুদ্ধ করে।
 
অবিচল চরিত্র : মানুষের ব্যক্তিত্যের উন্নতি ঘটায়, সম্মান, মর্যাদা, উত্তম গুণাবলী ও পূর্ণতায় উন্নীত করে।
 
যে মূলনীতিগুলো ইসলামকে রাষ্ট্র দর্শন হিসেবে পরিচিত করেছে :
 
সরকার ব্যবস্থা : ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা সামাজি পদমর্যাদা ব্যতিরেকে শুধুমাত্র দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হবে। আল-হাকিম থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, “যে ব্যাক্তি মুসলমানদের কোন বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করল, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হবে।” তিনি আরো বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি অস্বচ্ছভাবে মুসলমানদের শাসক নিয়োগ করল, সে আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও মুমিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল।”
 
রাজনীতি, অর্থনীতি ও দেওয়ানি আইন : ইসলাম কিছু সার্বিক নীতিমালা ও সাধারণ মূলনীতি প্রণয়ন করে দিয়েছে, আর প্রতি যুগে মানুষের কল্যাণ ও চাহিদা মেটানোর জন্য তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সে যুগের মুজতাহিদদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তারা কুরআন, সুন্নাহ, ইজমাহ ও কিয়াস অনুযায়ী উদ্ভুদ সমস্যার সমাধান দিবেন।
 
অপরাধ ও দন্ডবিধি আইন : ইসলামে এগুলো হুদুদ (সুনির্দিষ্ট) ও তাযিরাত (ভীতি প্রদর্শন) শাস্তি নামে পরিচিত।
হুদুদ- ধর্মান্তরিত হওয়া, হত্যা করা, চুরি করা, মিথ্যা অপবাধ দেয়া, ব্যাভিচার করা, মদ পান করা, পৃথিবীতে দুষ্কৃতি করা ইত্যাদি অপরাধের জন্য কুরআন ও সুন্নাহতে সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় শাস্তির বিধান রয়েছে।
 
শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী : শত্রুদের আগ্রাসন থেকে মুসলিম ভূ-খ- রক্ষা করা এবং আল্লাহর কালিমা সুউচ্চ করার জন্য শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গঠন করা মুসলিম রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
 
স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা : রাজা-প্রজা নির্বিশেষে সমতার ভিত্তিতে সকলের জন্য ন্যায় বিচার কায়েম করা। মহান আল্লাহ তা‘য়ালা, “হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ; যদিও ইহা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা ও আত্মীয় স্বজনের বিরূদ্ধে হয়।” (সূরা আননিসা, ৩৫)
 
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হল সদাচারণ, ন্যায্যতা ও পরস্পর শ্রদ্ধাশীলতা। মহান আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন, “দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই এবং তোমাদের স্বদেশ হতে বহিস্কার করে নাই তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন নাই। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আল-মুমতাহিনা, ৮)
 
জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার : ইহকালীন ও পরকালীন উপকারী জ্ঞান প্রচার প্রসার করা। মহান আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন, “বল হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর।” (সূরা ত্বা-হা, ১১৪)
 
জনমত প্রকাশের সুরক্ষা : সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেয়া, ইসলামি আইন কানুন মেনে চলা, জনগণের চাহিদা পূরণ করা এবং তাদেরকে মানুষের অনিষ্ঠ থেকে রক্ষা করা। সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব বাস্তবায়ন করার জন্য প্রতিটি মুসলিম শহরে একজন করে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা।
 
উল্লিখিত মূলনীতিগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলাম ধর্ম ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থা, বিশ্বাস ও শাসনব্যাবস্থা, ইবাদত ও রাজনীতি, ধর্মগ্রন্থ ও অস্ত্র এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সমষ্টি। ইসলাম তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বে খৃষ্টবাদ থেকে পরিপূর্ণ ভিন্ন।
 
ইসলামের এই নীতি সম্পর্কে অবগতি আছেন এমন যে কোনো বিবেকসম্পন্ন ও বুদ্ধিমান মানুষ এ কথা স্বীকার করবে যে, ইসলামে তথাকথিত যাজকতন্ত্র বা ধর্মীয় গুরুর কোন ধারণা নেই।
 
যাজকতন্ত্র শব্দটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে পশ্চিম থেকে আমদানি করা হয়। ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলিম পন্ডিত ও ফকিহদেরকে যাজকের স্থানে রেখে তাদের কর্মকা- আধ্যাত্মিকতা ও মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার ষড়যন্ত্র করে। শাসকদের পরামর্শ দেয়া, তাদের ভুলের সমালোচনা করা, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসন ব্যবস্থা থেকে সুকৌশলে আলমদের দূরে রাখার চেষ্টা করে। ইসলামবিদ্বেষীরা এবং ম্যাসোনিক আন্দোলন এমনটিই চেয়েছিল।
 
সমঅধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের মতো বর্তমান যুগের আলোচিত আইনি পরিভাষাগুলোও ইসলামি শরিয়াহ থেকে নেয়া। হগ ও প্যারিস সম্মেলন এবং বার্নাড শ ও শেবালের মতো পশ্চিমা দার্শনিকরা একথা অকপটে স্বীকার করেছেন।
ইসলামের মূলনীতি ও নিয়মপদ্ধতি শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ধর্ম ও রাষ্ট্রকে একই সূত্রে আবদ্ধ করেছে। এক কথায় ধর্ম ও জীবন ব্যবস্থার সমন্বিত রূপ হল ইসলাম।
 
আশা করি এ বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গেছে, রাজনীতি ও ধর্ম দুটি আলাদা বিষয়- এ কথা অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে খাটলেও ইসলামের ক্ষেত্রে খাটে না। কথা অনেক দীর্ঘ হয়ে গেল। কিন্তু ইসলামের রাষ্ট্রবিধিনগুলো লেখার জন্যে জন্যে দীর্ঘ কলেবরের গ্রন্থও যথেষ্ট নয়। সুতরাং ইসলাম থেকে রাষ্ট্র কে বাদ দিবেন কিভাবে?
লেখক: শিক্ষার্থী, পলিটিক্যাল সাইন্স, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি