পর্দাকে কটাক্ষ করে মেননের দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে: বাবুনগরী

221

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: হিজাব সৌদির সংস্কৃতি, বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়, গত রোববার (১৬ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মেননের দেয়া এমন বিতর্কিত বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেন, পর্দা ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ বিধান, ইসলামের ফরজ বিধান হিজাব [পর্দা] কে কেবল সৌদি সংস্কৃতি বলে কটাক্ষ করে রাশেদ খান মেনন মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। অনতিবিলম্বে শরয়ী বিধান হিজাবকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়;সৌদি সংস্কৃতি বলে কটাক্ষ করে মেননের দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তার এ বিতৰ্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্য তৌহিদী জনতার ক্ষোভের কারণ হতে পারে।

আজ বুধবার (১৯ জুন) সংবাদ মাধ্যমে প্ৰেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হিজাব [পর্দা] কোন সৌদির সংস্কৃতি নয় বরং ইসলামী সংস্কৃতি, পবিত্র কুরআন শরীফের ৭ টি আয়াত এবং রাসুল সা. ৭০ টির মত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। মেননের জানা উচিত যে, ইসলাম কোন আঞ্চলিক ধর্ম নয়, বিশ্বধর্ম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনিত শরীয়তের বিধি বিধান কেবল সৌদি আরব বরং ইসলামের প্রত্যেকটা বিধান বিশ্ববাসীর জন্য পালনীয়। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো আঞ্চলিক নবী নন, তিনি হলেন বিশ্ব নবী। সুতরাং হিজাবের বিধান বাংলাদেশ, সৌদি আরব সহ পুরো বিশ্বে চলবে।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, হিজাব ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান, হিজাব হলো নারী জাতি সুরক্ষিত থাকার অন্যতম মাধ্যম, এ ফরজ বিধানকে সৌদি সংস্কৃতি বলে কটাক্ষকারী ইসলাম ও মুসলমানদের চরম দুশমন। কোন ঈমানদার হিজাবকে সৌদি সংস্কৃতি বলে কটাক্ষ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে না।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,ফরজ বিধান হিজাবের বিরোধিতা করে ওরা মূলত নারী সমাজকে বেপর্দার দিকে ঠেলে দিয়ে শান্তির পরিবেশ বিনষ্ট করে সমাজকে বিশৃঙ্খল করতে চায়। নারীরা বেপর্দায় চললে সমাজে ইভটিজিং,ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ সংগঠিত হবে যার প্রমান বর্তমানে ভুরিভুরি পাওয়া যায়।

হুশিয়ারী উচ্চারণ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশর মানুষ ধর্মপ্রাণ ও ইসলাম প্রিয়। ইসলামের কোন বিধান নিয়ে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করলে তা এ দেশের কোটি কোটি মুসলমান মেনে নেবে না। প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।