জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া: ইতিহাস যেখানে একত্র করেছে দেশবিখ্যাত আলেমদের

523

তারিক বিন মুজিব।।

জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া। দেশের প্রাচীনতম কওমি মাদরাসাসমুহের অন্যতম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কান্দিপাড়ায় ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ মাদরাসা। প্রতিষ্ঠাকালীন মোহতামিম মাওলানা আবু তাহের ইউনুছ রহ.-এর নামানুসারে এ মাদরাসার নামকরণ করা হয় জামিয়া ইউনুছিয়া।

ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম সাহেব ছিলেন একসময় এ মাদরাসার পরিচালক। আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী, মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুযুর ও আবদুল ওয়াহহাব পিরজী হুযুরের মতো ত্রিরত্ন একসাথে এ মাদরাসায় খিদমত করেন দীর্ঘদিন।

লালবাগ মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ‘মুহাদ্দিস সাহেব’ খ্যাত মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ সাহেব, বড় হুযুব বলে পরিচিত আল্লামা সিরাজুল ইসলাম সাহেব, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক সাহেব ও মুফতি আমিনীসহ দেশময় প্রসিদ্ধ অনেক বুযুর্গ আলেম অধ্যয়ন করেছেন এ মাদরাসায়।

২০১৬ সালে জামিয়া ইউনুছিয়ায় শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান হয়। এ অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত উলামায়ে কিরাম অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে দ্বীনের পরিবেশ বিস্তারে এ মাদরাসার অবদান অনস্বীকার্য। এলাকার নিরক্ষরতা দূরিকরণে মাদরাসার ভূমিকা অপরিসীম। এ মাদরাসার কল্যাণেই সারাদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উলামা শহর হিসেবে পরিচিত।

জাতীয় ও আঞ্চলিক ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে জামিয়া ইউনুছিয়া বাতিলের মোকাবেলায় বরাবরই প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়ে এ মাদরাসার ছাত্রদের শাহাদতের ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। ফতোয়া আন্দোলনে ৬ জনের শাহাদত বরণ এ মাদরাসার গৌরবময় ইতিহাসের অংশ।

 

জামিয়ার বর্তমান মোহতামিম

জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার বর্তমান মোহতামিম মুফতি মুবারকুল্লাহ সাহেব। মুখলিস বুযুর্গ এ আলেম দীর্ঘদিন যাবত পূর্বসূরিদের অনুসরণে দেশের প্রাচীনতম প্রসিদ্ধ এ মাদরাসাটির দায়িত্ব আঞ্জাম দিচ্ছেন। মাদরাসার জন্য তার কুরবানী অপরিসীম।

বর্তমানে প্রাচীন এ মাদরাসাটিতে প্রায় দুইহাজার ছাত্র অধ্যয়ন করছে। দাওরায়ে হাদীসের ছাত্রসংখ্যা সাড়ে তিনশোর মতো। আদব, ইফতা বিভাগসহ বিভিন্ন শাখায় উস্তায অর্ধশতকেরও বেশি। এ তথ্য জানান জামিয়ার উস্তায মাওলানা রুহুল আমীন।

এলাকার মানুষের ইমান-আমলের বিশুদ্ধতার জন্য জামিয়ার পক্ষ থেকে প্রতি মাসে আয়োজন করা হয় ইসলাহি মাহফিল। বয়স্কদের দ্বীন শিক্ষার জন্য সময়ে সময়ে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন কোর্সের। এছাড়া এলাকার ছোট ছোট বাচ্চাদের শৈশব থেকেই দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি জামিয়ার পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে প্রাতঃকালীন মক্তব।