মুরসির ইনতিকালে আল্লামা বাবুনগরীর শোক প্রকাশ

151

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মিশরের সাবেক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাফেজ মুহাম্মদ মুরসির ইনতিকালে গভীর শোক প্ৰকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

১৮ জুন মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক শোক বার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মুহাম্মাদ মুরসি একজন হাফেজে কুরআন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, কুরআন হাদীস সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিল এবং তিনি ওলামায়ে কেরামকে ইজ্জত সম্মান করতেন।এমন খোদাভীরু একজন প্রেসিডেন্টের ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, মিশরের সর্বস্তরের জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত মুহাম্মদ মুরসি একজন প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্বেও সাদাসিদে জীবন যাপন করতেন, উচ্চ বিলাসিতা বলতে তার মধ্যে কিছুই ছিলনা। পরিবার পরিজন সহ রাজধানী কায়রোতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।  মুহাম্মদ মুরসী শান্তিময় বিশ্ব গড়তে কুরআন সুন্নাহর সংবিধানে রাষ্ট্ৰপরিচালনা, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্ৰাস দমনে ইসলামী জিহাদে বিশ্বাসী ও হকের উপর অটল অবিচল একজন আপোষহীন নেতা ছিলেন।  অন্যায় অবিচার, জুলুম আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সদা তিনি সোচ্চার ছিলেন। একজন আমানতদার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুহাম্মদ মুরসি মিশরের সকল মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, ইসলামের ইতিহাসে মিসর একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।  মিসর বিজয়ী ছিলেন রাসুল সা. এর সাহাবী হযরত আমর ইবনুল আস রাদি.। মুহাম্মদ মুরসি সাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিধন্য সেই মিশরে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলুম ও তাগুতের বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্রাম করেছেন।  তিনি হক প্রতিষ্ঠায় বাতিলের অনেক জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং মাজলুম অবস্থায় কারাগারেই তাকে বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে।  মুহাম্মদ মুরসী একজন দেশপ্রেমিক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। শত জুলুম নির্যাতন সত্বেও স্বদেশ ছেড়ে কোথাও যাননি তিনি।

পরিশেষে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন এবং তাঁর পরিবারকে সবরে জামিলের তাওফীক দান করুন।