সামষ্টিক অর্থনীতি এখন যে কোনও সময়ের তুলনায় চাপে: সিডিপি

23

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সামষ্টিক অর্থনীতি এখন যে কোনও সময়ের তুলনায় চাপে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

আজ মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর সিরডাপে ‘জাতীয় অর্থনীতির পর্যালোচনা ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার পেছনে অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত ছিল। সেই শক্তিতে এখন চিড় ধরেছে। সেই শক্তিতে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এর অনুষঙ্গ হলো কর আহরণে অপারগতা।

তার মন্তব্য, এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন একটা অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তা হলো প্রথমত রাজস্ব আহরণ, দ্বিতীয়ত ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও তৃতীয়ত টাকার বিনিময় হার অবনমন করা।

দেবপ্রিয় বলেন, এটা যদি অতিক্রম না করা যায় তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে অভিলাস, সেই অভিলাসের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করার সুযোগ কমে যাবে। অন্য উৎস থেকে যদি আমরা বিনিয়োগ করার চেষ্টা করি তাহলে সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বল হবে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

এ সময় তিনি কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষককে ৫ হাজার টাকা করে প্রণোদনা  দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি কৃষকদের প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। শিল্প ও কৃষির মধ্যে যে বাণিজ্য স্বত্ব থাকে, এই বাণিজ্য স্বত্ব কৃষকের বিপরীতে গেছে। এটা যদি অব্যাহত থাকে আগামী দিনে বাংলাদেশে কৃষকদের টিকে থাকা খুবই কঠিন হবে। তাই কৃষকের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

কোনও খাতে এমন অব্যবস্থাপনা নেই যা এই কৃষকের সঙ্গে করা হয়নি দাবি করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কারভাবে সিপিডির পক্ষ থেকে বলেছি, কৃষক অবশ্যই একটা আর্থিক ভর্তুকি দাবি করতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছে। কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষককে ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা করে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। এতে ৯ হাজার কোটি টাকার মতো লাগবে।’

ব্যাংক খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। গত তিন-চার বছর ধরে এ বিষয়ে বলতে বলতে এমন একটা অবস্থায় এসেছি অবশেষে ব্যাংক খাতের সংকট সবাই উপলব্ধি করছে। কিন্তু প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে আমরা তার প্রতিফলন দেখি না। বর্তমান সরকার আসার পর যে কয়েকটা পদক্ষেপ নিয়েছে, সবকটি পদক্ষেপ ব্যাংক খাতের জন্য আরও ক্ষতিকর হয়েছে।

এ সময় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলে তা আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের ব্যত্যয় ঘটাবে।’ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে- ‘ঘুষ, অনুপার্জিত আয়, কালো টাকা, পেশি শক্তির মাধ্যমে উপার্জন করা, সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে।’