নুহাশরা যখন নিজেদের অনিরাপদ মনে করে

279

আবদুল্লাহ আল ফারুক ।।

নুহাশরা কিন্তু ধার্মিকদের প্রতিনিধি নয়। আবার তারা চারিত্রিকভাবে ধর্মবিদ্বেষীও নয়।
এখন আমাদের সমাজে মোটাদাগে দুটি বৃহৎ বলয় রয়েছে। একটি হচ্ছে রাম-বাম ও ধর্মবিদ্বেষীদের বলয়। তাদের হাতে জনতার শক্তি না থাকলেও আছে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া।
এর বিপরীতে আরেকটি বৃহৎ বলয় হচ্ছে ইসলামপ্রেমী ও ইসলামপন্থীদের ঘরানা। যাদের কাছে জনতার শক্তি থাকলেও নেই শক্ত প্রচারমাধ্যম।
নুহাশ, মোস্তফা সারওয়ার ফারুকি ও হুমায়ূনদের মতো মধ্যপন্থীরা শিল্পচর্চার জগতে এসে তাদের নিজেদের মতো করে জনগণকে কিছু বার্তা দিতে চায়। তাদের সেই বার্তা কখনো ধর্মের পক্ষে আসতে পারে। আবার কখনো ধর্মের বিপক্ষেও যেতে পারে।
নুহাশরা যদি কখনো ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো গান, বা সিনেমা, বা ডকুমেন্টারি, বা শর্ট ফিল্ম তৈরি করে তাহলে দেশ-বিদেশের ‘রাম-বাম ও ধর্মবিদ্বেষী বলয়’ তাদেরকে মাথায় তুলে নাচবে। কারণ, তাদের তৈরি যেকোনো শিল্পের প্রভাব এদেশের জনজীবনে অত্যন্ত গভীর। যেমনটি চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদের বেলায় দেখেছি।
এর বিপরীতে নুহাশদের তৈরি কোনো শিল্প যদি ইসলামের পক্ষে আসে তাহলে এদেশের ইসলামপন্থীদের মূলধারা কখনই তাদের বাহবা দেবে না। কেননা তাদের শিল্পচর্চার ধরন ইসলামের কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং এ সময় ‘ইসলামবিদ্বেষী রাম-বাম মহল’ হৈ হৈ করে তেড়ে আসবে। তাদেরকে মিডিয়াচ্যুত করার তোড়জোড় শুরু করবে।
নুহাশরা এ সময় নিজেকে অনিরাপদ মনে করতে পারে। যার ফলে আগামীতে তারা ভুলেও ইসলামের পক্ষে বার্তাবাহী কোনো শিল্প তৈরি করার সাহস দেখাবে না।
এভাবেই প্রতিভাগুলো একসময় ওপাড়ায় চলে যায়।
কাজেই আমি মনে করি, এ সময় নুহাশদের সাপোর্ট দেওয়া দরকার। এই সাপোর্ট কিন্তু তার শিল্পচর্চার জন্যে নয়; বরং রাম-বাম ও ইসলামের প্রত্যক্ষ শত্রুদের দমনের জন্যে।
আজ যেসব সেক্যুলাঙ্গার ছোট্ট বিজ্ঞাপনের কারণে নুহাশকে অপরাধীর কাঠগড়ায় তুলছে, তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত না করলে নুহাশরা বিব্রত বোধ করবে। তারা মনে করবে, এদেশের মিডিয়ায় টিকে থাকতে হলে রাম-বামদের বাড়িয়ে দেওয়া গাজরই চিবুতে হবে।
এমনটা হতে দেওয়া যায় না।

লেখক: গ্রন্থকার, অনুবাদক, কলামিস্ট

লেখাটি লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া। সম্প্রতি নুহাশ হুমায়ূনের বানানো একটি টিভি বিজ্ঞাপনে ইফতার, আজান, নামাজ, রমজানের মার্জিত উপস্থিতি থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে মিডিয়ার পৌত্তলিকতাবাদী প্রগতিশীল (?) মহলটি বিষোদগার শুরু করেছে। লেখাটি সে প্রসঙ্গেই লেখা।