বুযুর্গদের ইতিকাফ: ফরিদপুরে বরেণ্য আলেম মুফতি আবদুল গাফফারের রমযানের মজলিস

248

বিশেষ প্রতিবেদন: তাযকিয়ায়ে নফস তথা আত্মশুদ্ধি প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য বিষয়৷ আত্মশুদ্ধি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো বুযুর্গ ব্যক্তিদের সান্নিধ্য গ্রহণ৷ সেই সান্নিধ্য মাসিক, পাক্ষিক বা সাপ্তাহিক কোন এক সময়ে সীমিতভাবে হয়ে থাকে। এছাড়া রমযানের মহিমান্বিত দিনগুলোতে হক্কানী আলেম ও শায়খদের সান্নিধ্য সহজলভ্য হয়ে উঠে। তারা পুরো রমযান মাসব্যাপী উম্মাহর নফসের পরিশুদ্ধতার জন্য ইতিকাফসহ নানান আয়োজন করে থাকেন৷ ছুটে যান শহর ছেড়ে মফস্বলে। আগত মুরীদান ও সম্পর্কিত ব্যক্তিদের ঈমান আমলের পরিশুদ্ধতার মেহনত করেন৷

আজ এমনি একটি রমযানকেন্দ্রিক উপকৃত মজলিসের কথা বলবো। কাসিমুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসা জুঙ্গুরদি, নগরকান্দা ফরিদপুরের অধীনে পরিচালিত খানকাহে এমদাদিয়া আশরাফিয়া। খানকাহ ও মাদরাসার পরিচালক, করাচীর হাকীম আখতার রহ.-এর খলীফা, মাদরাসা বাইতুল উলুম ঢালকানগরের প্রধান মুফতি ও শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মুফতি আবদুল গাফফার দা. বা.।

এ বরেণ্য আলেমের রমযানকেন্দ্রিক খানকাহের কার্যক্রম জানতে নগরকান্দা কাসিমুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতী ইমাম হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ইসলাম টাইমসকে জানান, এই মাদরাসাটি মুফতি আবদুল গাফফার সাহেব হুজুরের গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন। ১৪১২ হিজরী মোতাবেক ১৯৯১ ঈ. মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মাদরাসার শুরুলগ্ন থেকেই এখানে ইসলাহী কার্যক্রমধারা চলছে আসছে।

ইমাম হাসান জানান,  ৯০ এর দশক থেকে নিয়মিত মাসিক মজলিস এবং রমযান মাসে ইতিকাফসহ বিভিন্ন ধরনের আমল চলে আসছে এ খানকায়। বর্তমানে সারাবছরের মাসিক মজলিসগুলোতে ৮-১০ হাজার মানুষ এবং রমযানে প্রায় শতাধিক মুসল্লি হুজুরের সাথে ইতিকাফ করে থাকেন।

রমযানকেন্দ্রিক আমলের কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে মুফতী ইমাম হাসান বলেন, রমযানে হুজুরের তত্ত্ববধানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাদ ফজর “এক মিনিটের মাদরাসা” থেকে তালীম, সকাল দশটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কুরআনি মশক ও সাড়ে এগারোটা থেকে বিভিন্ন কিতাবের তালীম হয়। সাড়ে বারোটা থেকে যোহর পর্যন্ত হুজুরের বয়ান করেন। বাদ যোহর সুন্নাতের মুযাকারা এবং আমলী মশক। বাদ আসর “আদাবুল মুআশারাত” থেকে তালীম ও বয়ান। এবং তারাবীর পর হুজুরের বয়ান ও আশআরের মজলিস অনুষ্ঠিত হয়।

এই খানকায় প্রতি রমযানে ফরিদপুর মাদারীপুর রাজবাড়ি গোপালগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা গাজীপুর শেরপুরসহ দেশের নানান জায়গা থেকে শতাধিক ওলামা-ত্বলাবা ও সাধারণ মানুষ ইসলাহ তথা আত্মশুদ্ধির জন্য আগ্রহে নিয়ে উপস্থিত হন এবং ইতিকাফ করেন।