বুযুর্গদের ইতিকাফ:  রমযানে রাজশাহীর জামিয়া উসমানিয়া হয়ে উঠে প্রাণবন্ত

138

 ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন: নেককার ব্যক্তির সান্নিধ্যে থাকলে নেকি অর্জনের চেষ্টা সৃষ্টি হয়। নবীজি সা.-এর আদর্শের ধারক বাহক হিসেবে ওলামায়ে কেরাম সব ধরণের মানুষের ঈমান -আমলের ইসলাহের জন্য রমযান কেন্দ্রিক আমলী খানকাহ চালু করে থাকেন৷ এতে নফসের ইসলাহের সাথে সাথে জিকির আযকারে খানকাহ থাকে মুখরিত ও প্রাণবন্ত। বরকতময় রমযানের মুহূর্তগুলো তখন আরও দামী হয়ে উঠে।

আজ আমরা তেমনি একটি খানকাহ নিয়ে কথা বলছি। রাজশাহী অঞ্চলের বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া উসমানিয়া হোসাইনাবাদ, কাটাখালি। রমযানে মাসব্যাপী ইতিকাফের মজলিস সম্পর্কে জামিয়ার শিক্ষক মুফতী ওয়ালিউল ইসলাম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ইসলাম টাইমসকে জানান, জামিয়ার মুহতামিম, আল্লাম শাহ্ আহমাদ শফী দা.বা.-এর বিশিষ্ট খলীফা হযরত মাওলানা জামাল উদ্দীন মাহমুদ সন্দ্বিপীর নেগরানীতে প্রায় পনের বছর যাবত প্রতি রমযানে ম্যাসব্যাপী ইতেকাফের আমল চলে আসছে। রমযানে ইতিকাফকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সালেকীনদের আগমনে জামিয়ার ‘মাদানী মসজিদ’ মুখরিত হয়ে উঠে৷ রমযানের শেষ দশক হয়ে ওঠে আরো প্রাণবন্ত ৷

খানকাহে আমলের কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে মুফতী ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, শেষ রাতে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে আমল শুরু হয়৷ এরপর জিকির, সাহরী ও ফজরের নামায৷ নামাযের পর ইনফেরাদী জিকির৷ ঘুম থেকে ওঠে নামাযের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন আমল চলে৷ বাদ যোহর সুরা ইয়াসীন, খতমে খাজেগান, আসমাউল হুসনার আমল৷ তারপর কিছুক্ষণ তালীম৷ বাদ আসর কুরআনের দাওর ৷ এরপর ইফতার৷ বাদ মাগরীব আওয়াবীন, রাতের খানা, তারাবীহ৷ তারপর কিয়ামুল লাইলের আগ পর্যন্ত বিশ্রাম।

এভাবে রমযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সালেকীন বা জামিয়ার মুহতামিম সাহেবের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের আমল হয়ে থাকে৷ এই আমলী মজলিসে প্রতিবছর বহু মানুষ তার ঈমান আমলের জিন্দেগীকে আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেন। ঈমানের রঙে রঙিন হয়ে উঠেন৷