টঙ্গী ট্রাজেডির পর: ‘মানুষ আলেমদের সাথে আরও বেশী যুক্ত হতে চায়’

520
মাওলানা তাহমীদ ইকরাম সদ্য সালের সফর থেকে ফেরা এক তরুণ আলেম। পড়ালেখা করেছেন ঢাকা মারকাযুদ দাওয়াহসহ আরও কয়েকটি মাদরাসায়। তার সফরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তিনি টঙ্গী ট্রাজেডির আগে ও পরে সালের সফরগুলো করেছেন। ফলে তিনি খুব কাছ থেকেই সাধারণ মানুষের ওপর টঙ্গী ট্রাজেডির কী প্রভাব পড়েছে তা দেখেছেন।
 
সালের সফরের নানা অভিজ্ঞতা জানতে তার সাথে কথা বলেছেন ইসলাম টাইমসের এনাম হাসান জুনাইদ।
 
ইসলাম টাইমস: আসসালামু আলাইকুম, ভালো আছেন?
 
তাহমীদ: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন?
 
ইসলাম টাইমস : ভাল। আপনার সালের সফর শেষ হয়েছে কবে?
 
তাহমীদ: এই তো রমজানের আগের দিন।
 
ইসলাম টাইমস: কোথায় কোথায় সফর হয়েছে।
 
তাহমীদ: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়, কুমিল্লা সদর, ঠাকুরগাঁও জেলা সদর, নওগাঁ জেলা সদর, কেরানীগঞ্জ হযরতপুর ইউনিয়ন, কক্সবাজার রামু উপজেলা, ঢাকার মিরপুর।
 
ইসলাম টাইমস: সফরে দেশের বড় বড় আলেমদের কারো সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল কি?
 
তাহমীদ: আলহামদুলিল্লাহ, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের থেকে শুরু করে স্থানীয় বড় বড় আলেমদের অনেকের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। মুযাকারা হয়েছে। এই মুহূর্তে যাদের নাম মনে পড়ছে, তারা হলেন, কুমিল্লা ওলামা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা নুরুল হক সাহেব। ফরিদপুরে থাকা অবস্থায় ঢালকানগরের জাফর সাহেব ও আব্দুল গফফার সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা আমাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মুযাকারা করেছেন।
 
ইসলাম টাইমস: আপনি বলেছেন, কেরানীগঞ্জ হযরতপুর ইউনিয়নে সময় লাগিয়েছেন। তো সেখানে থাকা অবস্থায় মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?
 
তাহমীদ: আলহামদুলিল্লাহ, সেখান থেকে ভরপুর সহযোগিতা পেয়েছি। মারকাযুদ দাওয়াহ বিভাগের শিক্ষক, উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা হুসাইন সাহেব অনেক সময় দিয়েছেন।
 
ওই এলাকায় সময় লাগানোর শেষ দিকে গোটা হালকার সাথীদেরকে নিয়ে একটা জোর করা হয়েছিল। তাতে ৩০০ সাথী উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনা করেছিলেন মারকাযুদ দাওয়াহর আমীনুত তালীম, উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব। বয়ান শেষে হুজুর তাশকিল করেছেন এবং নিজেও চিল্লার জন্য নাম লিখিয়েছেন।
 
ইসলাম টাইমস: বিদেশি জামাতের সাথে সময় লাগানোর সুযোগ এসেছে কি?
 
তাহমীদ: টঙ্গী ট্রাজেডির পর বিদেশি জামাতের উপস্থিতি বলতে গেলে নেই। আমি নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে খবর পেয়েছি, বাইরের দেশগুলোতে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে সফরের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না। নয়তো বাংলাদেশে সময় লাগানোর জন্যে এখনও অনেক বিদেশী মেহমান অপেক্ষায় আছেন।
 
ইসলাম টাইমস: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে টঙ্গী ট্রাজেডির কেমন প্রভাব প্রত্যক্ষ করলেন?
 
তাহমীদ: সাধারণ মানুষের উপর টঙ্গী ট্রাজেডির প্রভাব চোখে পড়ার মত। প্রথম প্রথম দেখেছি, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই কাজ সম্পর্কে একটা ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল যে, এই নিরাপদে আর করা যাবে কিনা।
 
এরপর যখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলো এবং আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে এজতেমা অনুষ্ঠিত হলো, তখন দেখেছি মানুষের মধ্যে আগের মত স্বস্তি ফিরে এসেছে। মানুষ আগের চেয়েও বেশি আলেম ওলামাদের সাথে যুক্ত হতে চায়। সাধারণ মানুষের মাঝে উলামাদের গ্রহণযোগ্যতা যেন আরো বেড়ে গেছে।
 
ইসলাম টাইমস: সফরে এতাআতী ভাইদের কি অবস্থা দেখলেন?
 
তাহমীদ: সবখানেেই দেখলাম, সাধারণ মুসল্লিরা আলেমদের সাথেই যুক্ত রয়েছে। এতাআতী ভাইদের সাথে সাধারণ মানুষ নেই। তারা সবখানেই জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন।
 
ইসলাম টাইমস: তাদের সাথে কথা বলার তাদেরকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল কি?
 
তাহমীদ: হাঁ, তাদের বিভিন্ন লোকদের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুই শ্রেণীর লোক আছে। এক. যারা কথা শোনে, চিন্তা করে। এমন লোকদের সাথে কথা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ আমাদের কথা শুনে ফিরে এসেছেন। দুই. যারা কথা শোনে না। এমন লোকদের কারো ফিরে আসার কথা শুনিনি।
 
ইসলাম টাইমস: আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের দ্বীনী হালত কি? বিশেষত তরুণ প্রজন্মের কি অবস্থা দেখলেন?
 
তাহমীদ: সাধারণ মানুষের কথা নাই বললাম। তরুণ প্রজন্মের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। তাদের মাঝে মাদক আর ব্যভিচার এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে গেলে চোখে অন্ধকার দেখি।
 
ইসলাম টাইমস: আপনাকে সময় দেয়ার জন্যে জাযাকাল্লাহ
 
তাহমীদ: ওয়া ইইয়াকা