আজ দ্বিতীয় তারারীতে যা তিলাওয়াত করা হবে

85

[ একটি ধারাবাহিক প্রয়াস ]

বিশেষ প্রতিবেদন: আজ প্রথম রোযা। তারাবির দ্বিতীয় রাত। আজ তারাবিতে ২য় পারার অর্ধেক (সূরা বাকারার ২০৪ নাম্বার আয়াত থেকে) তৃতীয় পারার পূর্ণ অংশ (সূরা আল-ইমরানের ৯১ নাম্বার আয়াত পর্যন্ত) তিলাওয়াত করা হবে।

কুরআনের দ্বিতীয় পারার মাঝামাঝি অংশে আল্লাহ তাআলা ইমানদারদের পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে পার্থিব, ক্ষণস্থায়ী জীবনের ভোগ-বিলাসে মত্ত হওয়া থেকে সতর্ক করেছেন এবং দুনিয়াতে মুমিনদের উপর পরীক্ষামূলক যে বিপাদাপদ দেখা দেয় তাতে সবর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অতপর পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপি দাম্পত্য জীবনের খুঁটিনাটি ও ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে কারো বিবাহ বিচ্ছেদ করতে হলে- সুন্দরতম প্রক্রিয়া কী, খুলায়ের ( নারীর ডিভোর্স নেওয়া) বিধান, ইদ্দত চলাকালে পুরুষ-মহিলা কার কী করণীয়, সন্তান পালনে কার কী দায়িত্ব, শিশুকে দুধপান করানোর বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পারার শেষর দিকে আল্লাহ তাআলা দাউদ আ.-এর অত্যাচারী বাদশা জালুতকে হত্যা করে বনী ইসরাঈলে শান্তি ফিরিয়ে আনার ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয় পারার শুরুর দিকে আছে ‘আয়াতুর করসি’। কুরআনের সবচেয়ে মহিমান্বিত আয়াত। নাসায়ী শরীফের এক বর্ণনাতে পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে জান্নাতে প্রবেশ করতে তার মৃত্যু ছাড়া আর কোন বাধা থাকবে না।

অতপর খোদা-দাবিদার নমরুদের ইবরাহিম আ.-এর সাথে কথোপকথনে লজ্জাজনক নিরুত্তর হয়ে যাওয়া, কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উযাইর আ. কে মৃত্যুর একশত বছর পর জীবিত করা এবং ইবরাহিম আ.- এর কিছু পাখি কেটে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন পাহাড়ে ফেলে আসার পর সেগুলোকে জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা আল্লাহ তাআলা চমৎকার ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করেছেন। অতপর আল্লাহ তাআলা মুআমালা সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

কিছু পরে আল্লাহ তাআলা সদকাহ করার ফজিলত উল্লেখ করে প্রকাশ্যে-গোপনে উত্তম উত্তম জিনিস প্রচুর পরিমাণ দান করতে উৎসাহিত করেছেন। তবে দান করে খোঁটা দিলে সওয়াব বরবাদ হয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। সুদের সাথে সম্পৃক্ততা আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করার নামান্তর উল্লেখ করে এর ভয়াবহতা বর্ণনা করে সুদ থেকে বিরত থেকে করযে হাসানা দেওয়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে মুআমালার এ আয়াতগুলোতে। সাথে সাথে কাউকে ঋণ দিলে তা লিখে রাখা বা সাক্ষী রাখার নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।

এরপর সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত। এ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো রাত্রে এ দুই আয়াত পড়বে তা ওই রাতের জন্য যথেষ্ট হবে। উমর ও আলী রা. এই আমলকে খুব গুরুত্বের সাথে আদায় করতেন।

সূরা আল-ইমরানের শুরুতে আল্লাহ তাআলা কুরআনের কিছু সিফাত উল্লেখ করে আয়াতে মুতাশাবিহার ( যেসব আয়াতের মর্ম আল্লাহই ভালো জানেন) পেছনে না পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন।

অতপর বদর যুদ্ধের আলোচনা করা হয়েছে। ইসলামকে আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম উল্লেখ করে অন্য সব মত-পথ পরিহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজত্ব ও যাবতীয় ক্ষমতা কেবলমাত্র আল্লাহর ঘোষণা করে দুনিয়ার সকল অস্থায়ী ক্ষমতাধরদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

কিছু পরে আল্লাহ তাআলা মারয়াম রা.-এর ছোটকালেরর অলৌকিক ঘটনা, বার্ধক্যে যাকারিয়া আ.- এর ইয়াহয়া আ. কে সন্তান হিসেবে লাভ করা, ঈসা আ.-এর কিছু মু’জিযার কথা উল্লেখ করেছেন।

ঈসা আ. কে নিয়ে খ্রিস্টানদের বাড়াবাড়িকে কেন্দ্র করে রাসূল সা.-এর তাদেরকে মুবাহালার জন্য ডাকা এবং দুনিয়াতে এসে রাসূল সা. কে সত্যায়নের ব্যাপারে রূহের জগতে সকল নবী থেকে নেওয়া শপথের মাধ্যমে তৃতীয় পারার সমাপ্তি করা হয়েছে।