তুরস্কে সিরিয়া শরণার্থী কিশোররা ভার্সিটিতে ভর্তি হচ্ছে

73

এনাম হাসান জুনাইদ।।

তুরস্কে আশ্রয় নেয়া সিরিয়ার শরণার্থী তরুণরা তাদের  হাইস্কুলের পড়াশোনা সমাপ্ত করে এবার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তাদেরকে ন্যূনতম মানবাধিকার অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করছে তুরস্ক। বিশেষত, তুরস্কের ইউনিভার্সিটিগুলো সিরিয়া-শরণার্থীদের   আশা ও স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

দোহা সাহাফ, ২২, আজ থেকে সাত বছর আগে  তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ‘দিয়ারুয যাহর’ থেকে।

দোহা বলেছেন, যুদ্ধের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। ‘দিয়ারুয যাহর’-এ বসবাস তাদের জন্য  প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

‘১৫ বছর বয়সে  আমি আমার বাবা-মায়ের সাথে তুরস্কে চলে আসি। আজ প্রায় সাত বছর ধরে আমরা তুরস্কে আছি।

সিরিয়ায় দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। আমি যুদ্ধ থেকে প্রাণে বেঁচে এসেছি। যুদ্ধের কারণে আমরা তখন খুব বিপর্যস্ত ছিলাম।

কিন্তু তুরস্ক আমাদেরকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। আমি কখনোই অনুভব করিনি যে আমি আমার বাড়ি থেকে দূরে আছি,’ বলেন দোহা সাহাফ।

যখন যুদ্ধ শেষ হবে, তখন আমি আমার দেশে ফিরে যেতে চাই, যোগ করেন দোহা সাহাফ।

মোহাম্মদ হেলবি (২০)এখন মেডিসিন নিয়ে পড়ছেন সেলজুক ইউনিভার্সিটিতে। তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার।

‘আমি আমার সেকেন্ডারি স্কুল সিরিয়ায় সমাপ্ত করি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আমি হাই স্কুলে যেতে পারিনি। আমার মনে আছে যুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। আমরা আমাদের জীবন বাঁচানোর জন্য এখানে আশ্রয় গ্রহণ করি,’ বলেন হেলবি।

‘আমি এখানে একটি হাইস্কুলে ভর্তি হই। আমার স্বপ্ন, আমি একজন সফল ডাক্তার হব। আল্লাহ তুরস্ককে দীর্ঘজীবী করুন। তুরস্ক আমাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করেছে,’ যোগ করেন ইবরাহিম হেলবী।

ইবরাহিম ওমর তুরস্কে আশ্রয় নেয়া আরেক সিরিয়ান শরণার্থী কিশোর। ইবরাহিম বলেন, সে তার বাবাকে হারিয়েছে সিরিয়ার যুদ্ধে। অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে সে তার পরিবারের অন্যান্যদের সাথে তুরস্কে আসতে সক্ষম হয়। তুরস্কে সে তার স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেছে।

ওমর বলে, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল স্বাস্থ্য সেক্টরে কাজ করার। এখন তার স্বপ্ন  বাস্তব হতে চলেছে। পড়াশোনা সমাপ্ত হওয়ার পর এখানে  এ সেক্টরে কাজে যোগ দিতে পারবে বলে আশাবাদী ওমর।