হারিয়ে যাচ্ছে গাছের সবুজ!

111

 

আবু দারদা ।।

গাছ তো আমাদের জীবন্ত সাথী। সব সময় আমাদের জীবনে সঙ্গ দিচ্ছে। দিচ্ছে সুশীতল ছায়া। গাছের অপর নাম জীবন। তবে, দিনদিন জীবন নামের গাছগুলোকে কখনো সৌন্দর্য্য বাড়ানোর নামে, কখনো পথঘাট প্রশস্ত করার নামে গোড়া কেটে মারছে দেশের উন্নয়ন-করাত৷ নগরজীবনে একটু স্বস্তির নাম যদি হয় বিশুদ্ধ বাতাস, তাহলে বলতে হবে, গাছের সবুজতার বিকল্প নেই৷

এখনকার নগরে মানুষ একমুঠো সবুজের ছোঁয়া চায়, পায় না সহজে। এখন না আছে বৃক্ষ, না আছে ছায়ার শীতলতা। আজ থেকে একযুগ আগেও গাছের সমারোহ ছিলো চোখে পড়ার মতো। শহর কিংবা গ্রামের আশপাশের পিচঢালা রাস্তা ও মেঠোপথ ছিলো গাছে ঢাকা। ছায়ায় নিচে পরম ভালো লাগায় পথিক চলতো। তাতে মনে হতো, গাছগুলোর জন্মই হয়েছে পথিকদের সুখ দেয়ার জন্য৷ পথচারীরা ভালোবাসার উঞ্চ আদরে গাছের প্রতি যত্নবান থাকতো৷ নিয়ম মাফিক গাছের পরিচর্য়াও করতো অনেকে৷ আবার অনেক গাছ অনাদরে-অবহেলায় থেকেও মানুষকে প্রমান্তি দিয়ে যেতো । গাছ আল্লাহ তাআলার এক অপূর্ব সৃষ্টি!

খুউব মনে পড়ে, আজ থেকে দেড়যুগ আগে, আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে হতো সরু কালভার্টের পার ধরে৷ নীরব নিভৃত আঁকাবাঁকা পথ। গাছপালার কারণে অনেকটা ঝোপঝাড়ের মতো লাগতো। ঘনঘন গাছের দরুণ মেঘে ঢাকা আকাশের ছায়ার মতো দেখা যেতো প্রকৃতি। কৃষক এবং দিনমজুররা ছায়া ঢাকা গাছের নিচে বসে স্বস্তি নিত৷ ছায়ায় বসে আরাম যাপন করতো। সেইসাথে অতিথি পাখিদের কলতানও উপভোগ করতো তারা৷

পিচঢালা পথ

 

হালে এসব গাছগাছালি একদম শূন্য প্রায়৷ শহর, নগর, গ্রামে একই হাল। বলা যায়, টিকে আছে হাতেগোনা কিছু ফলমূলের গাছ৷ দেখা যায় না রাখাল-কৃষকদের দলবেঁধে বসে ছায়া উপভোগ করার দারুণ দৃশ্য। নেই দিনমজুরদের বিশ্রামের জায়গা। পাওয়া যায় না গাছের ছায়ায় গামছা পেতে ঘুমিয়ে পড়া মানুষের দল। গাছই তো কম, বিশ্রামের দল কোথায় পাওয়া যাবে!

নিজস্ব জমিতে যেমন গাছের কদর কমেছে, তেমনি সরকারী খাস জমির উপর প্রাচীন বৃক্ষ নিয়েও হয় রাজনীতির নোংরা খেলা। রাস্তা প্রশস্ততার নামে চলে গাছ লুটপাট। ভাগ-বাটোয়ারা করে ভোগ করে স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ৷ এতে করে পরিবেশ হয়ে উঠেছে দূষিত, নগরী ছায়াশূন্য, বাতাসশূন্য।

এই চেনা শহর ঢাকার দিকেই চোখ রাখুন, প্রতিদিনই একটু একটু করে রোগাক্রান্ত হচ্ছে। গাছ উপড়ে দিয়ে চলছে ইট পাথরে পরিবেশ ‘সুন্দর’ করার প্রতিযোগিতা। যার ফলে বাড়ছে বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ সবুজের সংকট। একারণেই প্রকৃতি ক্রমাগত হয়ে উঠছে রূঢ়, কর্কশ, প্রাণহীন। চার দেয়ালে মোড়ানো এই প্রস্তর-কঠিন নগরে আদতে প্রকৃতি বলে যেন কিছুই নেই আর! চারদিকে রুঢ় উত্তাপ, ঘামে জবজব বিরক্তি।

বাসায় বৃক্ষরোপন

ছোট্ট নগর কিংবা মহানগরের পথে-প্রান্তে এখনও যেসব প্রাচীন বৃদ্ধ গাছ টিকে আছে, সেগুলোর প্রতি না চাইতেও চোখ চলে যায়। দীর্ঘশ্বাস আসে, কতদিন তারা টিকে থাকবে! এদের প্রতি একটু মমতাবান হলে ক্ষতি কী! আমাদেরই তো সেবা করে যাচ্ছে এইসব গাছ।

গাছ আবহাওয়ার তাপমাত্রা হ্রাস করে, বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায় ও ভূমিক্ষয় রোধ করে। তাই পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। শূন্য জায়গায় গাছ লাগানোর অভ্যেস গড়ে তোলা যায়। এবং নগরীতে বাড়ির ছাদে পরিকল্পিতভাবে বাগান করা যায়। এই গাছকাটার যুগে কেউ কেউ সেটি করছেন। আল্লাহর দেওয়া এই নেয়ামতের মূল্যায়ন আসলে সবারই করা উচিত।

একটি গাছ কাটার আগে অন্তত তিনটি গাছের চারা রোপণ করতে পারি আমরা৷ গাছের বিশুদ্ধ বাতাসে আমাদের জীবনযাত্রা আরো সুন্দর হতে পারে৷ আনন্দময় হতে পারে৷ সুবজজাভ হোক আমাদের নগর-নগরী, গ্রামগঞ্জ।