হামলার আতঙ্কে শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন মুসলমানরা

155
তবে ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। আশ্রয় নেয়া মুসলমানদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয় লঙ্কান বাসিন্দারা। প্রাদেশিক পরিষদের একজন সদস্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘এসব মানুষকে অবশ্যই এখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। আমরা তাদের চাই না’।
বুধবার শতশত মুসলমান শ্রীলঙ্কার এই বহুজাতিক বন্দরনগরী নেগোম্বা থেকে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় কিছু লঙ্কানরা মুসলমানদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিলে মুসলমানরা পালাতে শুরু করেন।
বাসে চড়ে পালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আদনান আলি নামের এক মুসলমান ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এখানকার গির্জায় বোমা হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। কিন্তু আমরা এখন কোথায় যাবো তা আমরা এখনো জানি না।’
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারাও মুসলমানদের নিরাপত্তায় ঠিকমতো কাজ করছে না। কিন্তু পুলিশ বলছে, স্থানীয়রা নেগোম্বোর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি’ সন্দেহের ব্যাপক পরিমাণে অভিযোগ করছিলো। আর স্থানীয় নাগরিকরা যখন অভিযোগ করে তখন বাধ্য হয়েই পুলিশকে মুসলমানদের বাড়ি-ঘরে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে।

 

গত রবিবার শ্রীলঙ্কার ৩টি গির্জা ও ৪টি হোটেল সহ আটটি জায়গায় যে বোমা হামলা হয়েছে তাতে এখন পর্যন্ত মোট ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শুধু এই নেগোম্বো শহরের সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জার হামলাতেই প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন। রবিবারের হামলায় এখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর তার জেরেই খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।