কওমী ফোরামের সেমিনার অনুষ্ঠিত: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে ৭ দফা দাবি

212

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সব রকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে আজ মঙ্গলবার কওমী ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেমিনার। সেমিনারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে ৭ দফা দাবি ও সুপারিশ পেশ করা হয়। কওমী ফোরামের সদস্য মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান
স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।

কওমী ফোরাম সমন্বয়ক মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা হাসান জামিল, মুফতী এনায়েতুল্লাহ, মুফতী মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতী তোফায়েল গাজালী, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা ইয়াকুব উসমানী, মুফতী দ্বীন মুহাম্মদ, মাওলানা মাহবুব নবাবগঞ্জী, মুফতী আবুল কালাম তৈয়্যবী, মুফতী রিজওয়ান রফিকী প্রমুখ।

সেমিনারে আলোচকরা বলেন, স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টি বেশ পুরনো হলেও ইদানিং মাদ্রাসায় সংঘটিত কয়েকটি অনৈতিক ঘটনার খবর বেশ আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রিক কয়েকটি ঘটনা মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা জন্ম দিয়েছে। ফলে কেউ কেউ বলতে শুরু করেছে যে, মাদ্রাসা শিক্ষা ও স্কুল শিক্ষার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ গুলো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা সমাজে। এর থেকে বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

মাদরাসা শিক্ষার ধারা ও বাস্তবতা তুলে ধরে আলোচকরা  আরও বলেন, আলিয়া মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা দেখে মাদ্রাসা শিক্ষা ও স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা কে এক করে ফেলা উচিত হবে না। কওমি মাদ্রাসায় কোন অপরাধ সংঘটিত হয় না এমন নয়। যেহেতু কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে এই সমাজের লোকেরাই জড়িত সেখানেও কোন না কোনভাবে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটে। তবে ওহী ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ার কারণে সেখানে অপরাধ প্রবণতা খুবই কম এবং যখনই কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, এর শাস্তি হয় দৃষ্টান্তমূলক। অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার মতো কোনো সুযোগ নেই কওমি মাদ্রাসাগুলোতে। সর্বাবস্থায় এই সমাজ এবং দেশকে বাঁচাতে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে শতভাগ নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সেমিনারে শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয় রোধে যে ৭ দফা দাবি ও সুপারিশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বরাবর পেশ করা হয় সেগুলো হচ্ছে:

১) নারীদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে পাঠদান এবং পাঠগ্রহণ সহ যাবতীয় কার্যক্রম নারীরাই পরিচালনা করবেন।

২) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষিত ও শিক্ষানুরাগী এবং শিক্ষার মূল্য অনুধাবন করতে সক্ষম এমন ব্যক্তিরাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

৩) শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার মূলোৎপাটন করতে হবে। শিক্ষার জন্য নিবেদিত প্রাণ, মেধাবী ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত এমন লোকদেরকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

৪) যারা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে অর্থাৎ শিক্ষকতার মেজাজ নেই, কেবল জীবিকা নির্বাহের খাতিরে এ পেশায় আত্মনিয়োগ করেছে, তাদেরকে শিক্ষকতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে।

৫) ছাত্র, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সমস্যা সরাসরি সরকার প্রধানকে অবহিত করা যায় এমন কোন পথ খুলতে হবে। প্রয়োজনে এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে কোন সেল গঠন করা যেতে পারে।

৬) শহরকেন্দ্রিক গণপরিবহনগুলো দুই দরজা বিশিষ্ট হতে হবে। সামনের দরজা দিয়ে কেবল নারীরা আরোহন ও অবতরণ করবেন। পেছনের দরজা বরাদ্দ থাকবে পুরুষদের জন্য। প্রয়োজনে গণপরিবহনের মধ্যখানে পার্টিশনের ব্যবস্থা করে নেয়া যেতে পারে। যাতে নারীদের চলাফেরা নির্বিঘ্ন ও নিষ্কণ্টক হয়।

৭) মহান আল্লাহ তাআলার ফরজ বিধান পর্দার প্রতি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করতে হবে। ধর্ম ও নৈতিকতার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে শিক্ষার সকল স্তরে। যৌন উত্তেজনা ও উম্মাদনা সৃষ্টিকারী সমস্ত আয়োজন যথা অশ্লীল নাটক, সিনেমা, ম্যাগাজিন, ওয়েবসাইট ইত্যাদি বন্ধ করে দিতে হবে।