রয়টার্সের প্রতিবেদন : ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনে উইদোদো ও ইসলামের বিজয়

219

আবরার আবদুল্লাহ ।।

ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনের দুই মাস পূর্বেই বুকারজয়ী লেখক ইকা কার্নিয়াওয়ান এক মন্তব্য কলামে লেখেন ‘ইসলামপন্থীরা ইতিমধ্যেই বিজয় লাভ করেছে’। আদতে হলো-ও তাই। ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক বা বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো দ্বিতীয় মেয়াদে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছেন। তবে এবার তিনি নিজেকে একজন ইসলামপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা তার পক্ষে ভোট দেয়।

যদিও জোকো উইদোদো বলেছেন, তিনি ইন্দোনেশিয়ার বৈচিত্রময় সমাজের প্রতি লক্ষ্য রেখেই দেশ পরিচালনা করবেন। কিন্তু তার এবারের শাসনকালে ইসলামপন্থীদের প্রভাব যে স্পষ্ট হয়ে উঠবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যেসব ইসলামপন্থী সংগঠন তার বিজয়ের পক্ষে কাজ করেছে তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন তার শাসনকার্য-এ হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে উইদোদো তা কীভাবে করবেন সেটাই এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষত ইসলামপন্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, রাষ্ট্রীয় আর্থিক কাঠামোকে ইসলামি অর্থনীতি ও মুদ্রাব্যবস্থার আলোকে ঢেলে সাজানো। যা বর্তমান কাঠামোকে আমূল পরিবর্তন না করে সম্ভব নয়। নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত ইসলামপন্থী নেতা মারুফ আমিন একজন ইসলামি অর্থনীতিবিদ হওয়ার কারণে ইসলামি অর্থনীতি প্রবর্তনে উইদোদোর উপর চাপ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূলত জোকো উইদোদো ইসলামপন্থীদের সমর্থন লাভ করার পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাবোয়ো সুবিনাতোর জন্য বিজয় দুঃসাধ্য হয়ে যায়। ইন্দোনেশিয়ার বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, প্রাবোয়ো অচেহ, পশ্চিম জাবা ও পশ্চিম সুমাত্রায় তার সমর্থন হারিয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি এসব প্রদেশে বিজয়ী হয়েছিলেন। এই প্রদেশের মুসলিম ধর্মপ্রাণ এবং সেখানে শরিয়া আইনও প্রবর্তন করা হয়েছে। জনসংখ্যার ৯৭ ভাগই মুসলিম। এই ৩ প্রদেশের ফলাফল সামগ্রিক নির্বাচনের হিসাব পাল্টে দিয়েছে।

জোকো উইদোদোর এই বিশাল বিজয়ের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ‘নাহদাতুল উলামা’। এই সংগঠনটিই ২০১৬ সালে কুরআনকে অবমাননা করে মন্তব্য করায় জাকার্তার মেয়রের বিরুদ্ধে গনআন্দোলন গড়ে তুলেছিলো। এই গণআন্দোলনকে ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের উত্থান হিসেবে দেখা হয়।

নাহদাতুল উলামার নেতা মারুফ আমিন এই নির্বাচনে উইদোদোর রানিংমেট হিসেবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন। মারুফ আমিন একজন ইসলামি অর্থনীতিবিদ। সে হিসেবে ইসলামি অর্থনীতি প্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উইদোদোও তার এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বিশেষত ধর্মীয় বিষয় ও নীতি নির্ধারণে।

এখন দেখার বিষয় ইন্দোনেশিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পেরিয়ে বৈচিত্রময় সমাজে মারুফ আমিন ইসলামের পক্ষে কতোটা কাজ করতে পারেন এবং জোকো উইদোদো তার বিজয়ের পক্ষে ইসলামপন্থীদের ভূমিকার মূল্যায়ন কীভাবে করেন।

সূত্র : গত ১৮ এপ্রিল রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে