যে অঞ্চলে আলেমদের বিচরণ কম সেখানে কাদিয়ানিদের তৎপরতা বেশি : মাওলানা আবদুল মজীদ

271

খতমে নবুওয়তের কাজে বাংলাদেশে দাঈ প্রশিক্ষণমূলক কাজ বেশি দরকার। খতমে নবুওয়তের মূল বিষয়গুলো নিয়ে চর্চার পাশাপাশি যেখানে কাদিয়ানিদের আরোপিত প্রশ্ন ও বিতর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। এতে তৈরি হবে অনেক যোগ্য দাঈ, যারা কাদিয়ানিদের ছড়িয়ে দেওয়া বিতর্ক ও সংশয় দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারবেন –বলছিলেন রাজধানীর বাড্ডা মিফতাহুল উলুম মাদরাসার মুহাদ্দিস ও খতমে নবুওয়ত বিষয়ক দাঈ মাওলানা আবদুল মজীদ।

এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ইসলাম টাইমসকে মাওলানা আবদুল মজীদ বলেন, সাধারণ মুসলমানদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে সমাবেশ ও সম্মেলন বড় ভূমিকা রাখে। সমাবেশ-প্রোগ্রাম করতে হবে । এর দ্বারা অবশ্যই ফায়দা হয়। তবে মানুষের মাঝে খতমে নবুওয়ত উপযোগী মানসিকতা তৈরি করতে বেশি কাজ করতে পারে খতমে নবুওয়ত বিষয়ে প্রশিক্ষিত দাঈ। এজন্য খতমে নবুওয়তের প্রশিক্ষণে বহু আলেম ও মানুষকে যোগ্য করে গড়ে তোলা দরকার। ঢাকার তিনটি প্রতিষ্ঠান ও মারকাজসহ দেশের কোনো কোনো জায়গায় প্রশিক্ষণ চলছে। কোথাও চলছে একবছরের কোর্স, কোথাও সপ্তাহ বা মাস ভিত্তিক প্রশিক্ষণ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কাদিয়ানিদের তৎপরতা সচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাওলানা আবদুল মজীদের। তিনি জানান, সারা দেশে কাদিয়ানিদের আস্তানা রয়েছে প্রায় ৩০০টি। পঞ্চগড় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় তারা নিজস্ব আবাসিক এলাকা, হাউজিং ইত্যাদি গড়ে তুলছে। এছাড়াও রংপুরের তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, শ্যামপুর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরাসহ প্রায় সব জেলা শহরে ও অবহেলিত গ্রামে কাদিয়ানিদের কাজ রয়েছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির কবিরপুরেও রয়েছে কাদিয়ানিদের বিশেষ তৎপরতা।

এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আবদুল মজীদ বলেন, কাদিয়ানিদের তৎপরতা সে অঞ্চলেই বেশি দেখবেন, যেখানে আলেমদের বিচরণ কম, যেখানে মাদরাসা ও ইলমেদীনের কেন্দ্র কম। তাদের কাজ সাধারণ মানুষ, সাধারণ মুসলমানকে ধোকা দেয়া । আলেমদের ভালো বিচরণ আছে, এমন সমাজে তারা সেটা পারে না। সেজন্যই আলেমশূন্য সমাজে তারা খতমে নবুওয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে চেষ্টা করে। তাই দেশের প্রান্তিক এলাকায় আলেমদের দাওয়াতি বিচরণ বাড়াতে হবে। প্রশিক্ষিত দাওয়াতি বিচরণই সবচেয়ে বেশি উপকারী।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : আবু তাশরীফ