কাল ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ইসলামপন্থীদের দিকে তাকিয়ে প্রার্থীরা

157

আবরার আবদুল্লাহ ।।

আগামীকাল ১৭ এপ্রিল সর্ববৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠির দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের সমর্থনের দিকে তাকিয়ে আছেন প্রার্থীরা। ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামপন্থীদের সমর্থন যিনি পাবেন তিনিই নির্বাচনে জয় লাভ করবেন। ইসলামপন্থীরাই এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছেন৷

ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের বড় অংশ -তরুণরাই এখন দেশে ইসলাম অনুশাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এক জরিপ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশটির ভোটারদের ৮০ ভাগই ছিলো ১৭ থেকে ৩৪ বছর বয়সী৷

১৯৪৯ সালে চূড়ান্ত স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হয়। কিন্তু সেই চেষ্টা খুব বেশি সফল হয়নি বলে প্রমাণিত হয় ১৯৯৮ সালে সেদেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়ার পর। মানুষ রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভের পরপরই ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামপন্থীদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো লড়ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ানদোর বিপক্ষে৷ যিনি জোকোভির ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেছেন তিনি ‘ইসলাম ভাবাপন্ন নন’। তার যথাযথ উচ্চারণে আরবি পড়তে না পারার বিষয়টিও ভোটারদের মাঝে বহুল আলোচিত।

ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের প্রভাব স্পষ্ট হয় ২০১৬ সালে জাকার্তার গভর্নর যখন কুরআন বিরোধী মন্তব্য করেন। ২০১৬ সালে নির্বাচনি প্রচারের এক বক্তৃতাকালে কুরআন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলে লাখ লাখ মানুষ তার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। ২০১৭ সালের মে মাসে ব্লাসফেমি আইনে তাকে শাস্তিও দেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধির পেছনে দেশটির ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই দেশি-বিদেশি একাধিক মিডিয়ায় ইসলাম বিদ্বেষীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যাচ্ছে। যেমন, একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে ‘পেসন্ত্রেন’ নামে পরিচিত ধর্মীয় বিদ্যালয় অনেক বেড়েছে৷ বিদেশি অর্থে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে রক্ষণশীল ধারার ইসলামের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে৷ এ কারণেই  তরুণ ইন্দোনেশিয়ানরা  বেশি মাত্রায় মৌলবাদী হয়ে উঠছে৷’

তথ্যসূত্র : ডয়েচে ভেলে