মাদরাসার উপর আসছে বিপদ! সতর্ক হওয়া জরুরি!!

1016

আলী আজম ।।

[১]
রাজধানীর ডেমরায় নূরে মদিনা মাদ্রাসার শিশু ছাত্র মনির হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মসজিদে-এ আয়েশার ইমামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল এবং দুই শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন ও তোহা। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মনিরকে মসজিদের সিঁড়িতেই শ্বাসরোধে হত্যা করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন আকরাম হোসেন ও তোহা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ফরিদ উদ্দিন। তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী মনিরকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিলেন আটকরা। কিন্তু মুক্তিপণ পাওয়ার আগেই তারা শিশুটিকে হত্যা করেন। আহ! কী মর্মান্তিক ঘটনা!

[২]
চট্টগ্রামে আবু বক্কর সিদ্দিক আল ইসলামিয়া মাদরাসা থেকে এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত হাবিবুর রহমান (১২) খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এলাকার বাসিন্দা। সে পরিবারের সাথে চট্টগ্রাম নগরের শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় থাকতো। বুধবার রাত ১২টার দিকে মহানগরীর বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকার ওই মাদরাসা থেকে এই শিশু ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার জানান, মাদরাসায় এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। শিশুটির পিতা আনিসুর রহমান বলেন, চারদিন আগে মাদরাসার শিক্ষক তারেক আহমেদ ছেলেকে মারধর করেন। এ কারণে ছেলে মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে যায়। পরদিন বুঝিয়ে-শুনিয়ে ফের তাকে মাদরাসায় পাঠানো হয়। এরপর গতরাতে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

[৩]
বোন নুসরাত যার হাতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি একজন মাদরাসার অধ্যক্ষ। সেই অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলা একজন আলেমের লেবাস নিয়ে এই অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। এমনকি বোন নুসরাতকে ওই অধ্যক্ষ নিজের মতো করে পটাতে না পেরে সর্বশেষ অন্যদের দিয়ে তাকে হাত পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চান। যদিও সেদিন নুসরাত আগুনে পুড়েও কোনোরকমে প্রানে বেঁচে যান, কিন্তু শেষমেশ তাকে ইহজগত ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমাতে হয়। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো, অনেকে মনে করছেন এই ঘটনা যেহেতু একজন সরকারি তথা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে সেহেতু আমরা কওমীরা বেঁচে যাব। আমি মনে করি এই ধারণা ভুল। কারণ, হোক সে ব্যক্তি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ, কিন্তু তিনিও একজন ধর্মীয় লেবাসধারী। কাজেই আঘাতটা ধর্মীয় শিক্ষার উপরই আসবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। তাহলে আমরা ধর্মীয় অঙ্গনের মানুষেরা এই ঘটনার জের থেকে রেহাই পাই কী করে?

একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। আর ভেবে দেখুন এই ঘটনাগুলো আপনার মস্তিষ্কে কিঞ্চিৎ উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে কিনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, মাদরাসায় ছাত্র নিহত কিংবা হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা দিনদিন উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। কদিন পরপর নানা জায়গার নানা মাদরাসার ছাত্র নিহত হবার খবর আমরা শুনতে পাচ্ছি।যা মোটেও আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোর জন্য কল্যাণকর নয়। দিনদিন দেশে উল্লেখযোগ্য হারে মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পাওয়ার সাথ সাথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোও যেন নিয়মিত ঘটনায় রূপ নিচ্ছে। এটা মাদরাসা শিক্ষার জন্য বড়ো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কদিন পর সরকারের সঙ্গে থাকা লোকেরা এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের মাদরাসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের পথ বের করতে পারে। কাজেই মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে খুব বেশি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান করছি। অন্যথায় কাল আপনার মাদরাসাতেও ঘটতে পারে এজাতীয় অঘটন। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

লেখক: সৌদিআরব প্রবাসী তরুণ আলেমেদীন। লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে।