বসনিয়ার আরেক ‘কসাইয়ে’র আমৃত্যু জেল ও সন্তানহারা মায়ের আনন্দাশ্রু

54

আবরার আবদুল্লাহ ।।

বসনিয়ার কসাই খ্যাত সার্ব-রাজনীতিক রাদরোভান কারাদিজিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে জাতিসংঘের আপিল বিভাগের বিচারকগণ। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই অপরাধে তাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Related image

এই রায়ের ফলে ৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের বাকি জীবনে জেলে কাটাতে হবে।

প্রিজাইডিং জাজ ভ্যান জনসেন রাদরোভান কারাদিজের উপস্থিতিতেই গত বুধবার এই রায় পাঠ করেন। তবে রায় শুনে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি এই নেতা।

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৬ সালে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কারাদিজ। সেই রায়ে ১৯৯২-৯৫ বসনিয়ান গৃহযুদ্ধে সময় মুসলিম গণহত্যার পেছনে তাকে মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী) অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ছিলো ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। এতে ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারায় এবং গৃহহীন হয় কয়েক মিলিয়ন মানুষ। যাদের অধিকাংশই মুসলিম।

হেগ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরধ আদালতে বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে কারাদিজকে অন্যতম ধারণা করা হয়। তার মামলাকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়।

জনসেন বলেন, ট্রাইল চেম্বার মাত্র ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ভুল করেছিলো।

Image result for Butcher of Bosnia’ Karadzic

তিনি কারাদিজের অপরাধকে ‘সুপরিকল্পিত এবং নিয়মতান্ত্রিক নির্মমতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

জনসেনের নতুন রায় শোনার পর দর্শকরা সরব আনন্দে মেতে ওঠেন।

বসনিয়ান গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার-পরিজন কোর্টের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তারা জায়ান্ট স্ক্রিনে মামলার কার্যক্রম দেখছিলেন। বসনিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যম নেদারল্যান্ড থেকে সরাসরি মামলার কার্যক্রম সম্প্রচার করছিলো। বসনিয়ার বিভিন্ন শহরে জায়ান্ট স্ক্রিনে তা দেখানো হচ্ছিলো সমবেত মানুষকে। তাদের মধ্যে ছিলো সন্তানহারা বাবা-মা, নিহতদের ভাই-বোন ও স্বামী বা স্ত্রী। রায় শোনার পর তারা আনন্দে মেতে ওঠেন আবার কেউ কেঁদেও ফেলেন।

Image result for Butcher of Bosnia

বসনিয়ান-সার্ব যুদ্ধের সময় সার্ব সামরিক বাহিনীর কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচও তার আমৃত্যু হাজতবাস দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এবং মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ম্লাদিচের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই দুই ব্যক্তি (ম্লাদিচ ও কারাদিজ) মুসলিম গণহত্যার সময় কসাইয়ের ভূমিকা পালন করেন। তারা শুধু এক মাসে (জুলাই ১৯৯৫) ৮ হাজার মুসলিম পুরুষকে হত্যা করেন।

কারাদিজকে ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।