নিউজিল্যান্ডে নিহত মুসলিমদের লাশ ৫ দিন পর দাফন শুরু

49

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: হত্যাকাণ্ডেরে ৬ দিনের মাথায় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ দাফন আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার ওই হামলায় ৫০ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আজ দুজনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

জানা গেছে, সব লাশ এখনো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শেষ হয়নি। আজই হস্তান্তর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাশ শনাক্তকরণে দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় নিউজিল্যান্ড পুলিশ ঘটনার দুদিন পর রোববার থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর শুরু করে। আজ লাশ হস্তান্তর শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ যে দুজনের লাশ দাফনের জন্য নেওয়া হয়, তারা বাবা ও ছেলে। সমাধিস্থল ক্রাইস্টচার্চ মেমোরিয়াল পার্ক সেমেটারিতে লাশ দাফন অনুষ্ঠানে শত শত শোকাহত মানুষ অংশ নেন। পুরো স্থানজুড়ে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমাধিস্থলে আরও কয়েকটি কবর খোঁড়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, খাটিয়া থেকে লাশ কবরে নামানোর সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা দেড়টায় জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে প্রথম হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্ট (২৮)। হামলার পুরো ঘটনা সে ফেসবুকে লাইভস্ট্রিম করে। এর অল্প কিছু পরে বন্দুকধারী লিনউড মসজিদে হামলা চালান। দুই মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহত হন। আহত হন ৫০ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ শনাক্তের কাজ শেষ হয়েছে। আজ রাতের মধ্যে লাশ শনাক্তের কাজ শেষ করা হবে।

লাশ শনাক্ত করে হস্তান্তরের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় হতাশ নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা। কারণ, ইসলামি অনুশাসন ও মুসলিম রীতি অনুসারে যত দ্রুত সম্ভব লাশ দাফন করা হয়।

লাশ হস্তান্তরে দেরি প্রসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, হামলার ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যা প্রমাণে বিচারককে সন্তুষ্ট করতে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ বিস্তারিতভাবে শনাক্ত করতে হবে। কীভাবে মৃত্যু হলো, তা না উল্লেখ করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। তাই বিচারের কথা বিবেচনায় রেখে কাজটি সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে করা হচ্ছে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯ জন হাসপাতালে রয়েছেন। আটজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। গুলির আঘাতের কারণে অনেকের একাধিক অস্ত্রোপচার লেগেছে।