হায়! ইজ্জতটা খোয়ানোর আগেই যদি ফিরে আসতে

286

আবদুল্লাহ আল ফারুক।।

‘মেয়েদের হলের ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার নবজাতকটিকে বাঁচানো গেল না’
স্থান : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সংবাদ : প্রথম আলো (রবিবার) ১৭,০৩,২০১৯

আমরা খুব ভালোভাবেই জানি যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রুসেডের অংশ হিসেবে একদিকে অশ্লীলতা ছড়ানোর কার্যক্রম বেগবান করা হচ্ছে, অন্যদকে বিয়ে-শাদির প্রতি অনুৎসাহিত করার দূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে।
তারই অংশ হিসেবে, কখনো উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়াকে রাবারের মতো টেনে দীর্ঘ করা হচ্ছে, এর পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের চোখে কাল্পনিক প্রতিষ্ঠালাভের চশমা পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সমাজে অশ্লীলতার উপকরণ এত বেশি সহজলভ্য করে দেওয়া হচ্ছে যে, এ প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা পড়ছে দু’ধারী করাতের নিচে।
একদিকে বিয়ের সবগুলো পথ বন্ধ, অন্যদিকে যৌনতা উস্কে দেওয়ার সবগুলো পথ খোলা। এমন প্রেক্ষাপটে তারা করবেই বা কী! যৌনতার অদম্য ইচ্ছা পূরণ করতেই নদীর উপচে ওঠা পানির মতো তারা আশপাশের অঞ্চলগুলোতে মুখ লুকিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
আর তখনই ঘটছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কালকের অঘটনের মতো লজ্জাস্কর দুর্ঘটনা।
এমন নয় যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। শিশুমৃত্যুর দুর্ঘটনা ধামাচাপা দিতে পারেনি বলেই আজ তা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে।
….
পরিষ্কার জেনে নিন, তাদের এই নষ্ট সভ্যতাই তাদেরকে কুড়ে কুড়ে খাবে।
এই নষ্ট সভ্যতার এইচ.আই.ভি ভাইরাস ধ্বংস করে দেবে তাদের নৈতিকশক্তির প্রতিরোধক্ষমতা।
কারণ, তারা আমাদের নৈতিকতার ডাকে সাড়া দেয়নি।
আমরা যখন সহশিক্ষার বিরুদ্ধে বলি তখন তারা সেকেলে বলে গাল দেয়।
আমরা যখন নারী ও পুরুষের ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রের কথা বলি তখন তারা কুপমণ্ডুক বলে গালি দেয়।
আমরা যখন ছেলে ও মেয়েকে পরিণত শরীরের শুরুতেই বিয়ের কথা বলি, তখন তারা বাল্যবিয়ের মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করিয়ে নৈতিক সমাজ গড়তে বাঁধা দেয়।
কিন্তু অবৈধ যৌনসম্পর্কের ফসল এই শিশুর মৃত্যুর জন্যে আজ তারা কাকে গাল দেবে?
সতীত্ব খুইয়ে সবার কাছে নষ্টা প্রমাণিত হওয়া এই মেয়েটি যদি আত্মহত্যা করে তাহলে তার জন্যে তারা কাকে দায়ী করবে?

জানি, তারা একদিন তাদের নষ্ট সভ্যতার করুণ পরিণতির দহন বুঝতে পারবে। তখন হয়তো তারা ইসলামের ছায়ায় ফিরে আসবে; কিন্তু ফিরে আসবে নিজের সবটুকু ইজ্জত খোয়ানোর পর।
হায়! ইজ্জতটা খোয়ানোর আগেই যদি ফিরে আসতে।