নিউজল্যান্ডে খ্রিস্টান সন্ত্রাসী ব্রেনটনের গুলিতে খুতবার সময় শহিদ ৪৯ মুসুল্লি 

107

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আন নূর মসজিদটি ছিল শান্ত, নিস্তরঙ্গ ও নীরব। রমজান নামে এক মুসল্লি সাংবাদিকদের বলেন, নামাজের আগে যখন খুতবা শুরু হয়, তখন একটি পিনপতনের শব্দও শোনা যায়নি। বেলা দেড়টার দিকে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু হলে এ পর্যন্ত ৪৯ জন মুসল্লি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মসজিদের মূল কক্ষ থেকে গুলি শুরু হয়েছে। আমি ছিলাম পাশের কক্ষে। কাজেই কে গুলি করছেন, তা আমি দেখিনি। কিন্তু কিছু লোক ওই কক্ষ থেকে পালিয়ে আমাদের এদিকে আসতে শুরু করেন। কিছু কিছু লোকের শরীরে আমি রক্ত দেখতে পেয়েছি। কেউ কেউ নিস্তেজ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। তখনই আমার কাছে মনে হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটছে।

খ্রিস্টান সন্ত্রাসী ব্রেনটন ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে একটা গাড়ি নিয়ে যায়। একটি সরু গলিতে গাড়িটি পার্ক করে রেখে অস্ত্র নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যায়। তার গাড়ি থেকে অন্তত ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হেঁটে হেঁটে সে মসজিদের সামনের দরজায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। -খবর মেইল অনলাইনের।

এর পর সে মসজিদে ঢুকে পড়ে এবং সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই গুলি করে হত্যা করেছে। প্রথমে গুলি খাওয়ার পর এক ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে মসজিদ থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ফের ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

মসজিদটিতে তিন শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। শুক্রবার উপলক্ষে জুমার নামাজ পড়তে এদিন দুই শতাধিক উপস্থিত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

এ হত্যাকাণ্ডের পূর্বাভাস দিয়ে ৭৩ পাতার ইশতেহারে খ্রিস্টান জঙ্গি-সন্ত্রাসী ব্রেনটন লিখেছে- ‘সে মুসলমান ও ধর্মত্যাগীদের ঘৃণা করে। সে আরও বলে, আমি ২০১১ সালে নরওয়ের অসলোতে ৭৭ জনকে হত্যাকারী অ্যান্ডারস ব্রেভিকসহ অন্যান্য বন্দুক হামলাকারীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ডায়লান রুফসহ আরও অনেকের লেখা আমি পড়েছি। তবে সত্যিকার অর্থে আমি নাইট জাস্টিসিয়ার ব্রেভিকের কাছ থেকেই হামলার উৎসাহ পেয়েছি।’

আরও পড়ুন : আমি অবশ্যই ট্রাম্পের একজন সমর্থক : নিউজিল্যান্ডে হামলাকারী খ্রিস্টান জঙ্গি ব্রেনটন