সরকারের ইচ্ছায় বিকল্প পথে হাঁটছে মনঃক্ষুণ্ন শরিকরা!

343

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি আওয়ামী লীগের শরিক দলের কারো। পূর্বের দুই সরকারে শরিকদের অল্প-বিস্তর অংশগ্রহণ থাকলেও এবার শতভাগ আওয়ামী মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। এতে স্বভাবতই মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন তারা। মহাজোট ও ১৪ দলের শরিক অনেকেই ভাবছেন আওয়ামী লীগ এখন আর শরিকদের প্রয়োজন আছে মনে করছে না।

মন্ত্রিসভা গঠনের পরপর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছিলো আপাতত মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের বাইরে আর কারো স্থান হচ্ছে না।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন শরিক দলগুলোকে আওয়ামী নির্ভরতা কমিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলেন তখন শরিক দলগুলোর হতাশা আরও প্রকট হলো। এখন তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও হতাশা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা সরকার ও বিরোধী দলে থাকুক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি। তাই সরকারে না থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখতে পারে শরিকেরা। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তিও বাড়াতে পারে।

তার এই বক্তব্যের পর শরিকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনেও হয়তো তারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই শরিক দলগুলোর সামনেও নিজেদের ঘর গোছানো ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। ইতিমধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি পলিটব্যুরোর এবং জাসদ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে। এ মাসের শেষভাগে এবং আগামী মাসের শুরুতে এসব সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কিছুটা অভিমান নিয়েই ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা যাঁরা রাজনৈতিক দল করি, তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই রাজনীতি করি। তাই প্রধানমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা ঠিক পরিষ্কার নয়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার শরিকদের ভেতর থেকেই একটি অনুগত এবং বাহ্যত সক্রিয় বিরোধী দল তৈরি করার চেষ্টা করছে। যাদেরকে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। এতে সরকার ও তার শরিক উভয়েই লাভবান হবে।

সরকারের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিনের কার্যক্রম ঢেলে সাজাচ্ছে আওয়ামী লীগের শরিকরা। যদিও ক্ষমতার অংশিদার হতে না পারার বেদনা প্রকাশ পাচ্ছে তাদের কথা, কাজে ও আচরণে।