হত্যার আগে খাশোগি, ‘দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমার মাথা থেকে ব্যাগ সরাও’

11

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে ফেলা হয় সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির। তারপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তুর্কি সংবাদমাধ্যম দৈনিক সাবাহ’র এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে উদ্ধার হওয়া এক অডিও রেকর্ডিং-এর বরাত দিয়ে এ দাবি করেন ওই সাংবাদিক।

সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধানী বিভাগের প্রধান নাজিফ কারামান কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, মৃত্যুর আগে খাশোগির বলা শেষ কথাগুলো ওই অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে। খুনিদের কাছে খাশোগি বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন।

গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে খাশোগির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কিংবা অন্য কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে আসছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি নাকচ করে তুরস্ক এরই মধ্যে দাবি করেছে, সরকারের ঊর্ধ্বতনদের ইন্ধনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিজেদের কাছে প্রমাণ থাকার দাবিও করে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম সাবাহ’র অনুসন্ধানী সাংবাদিক নাজিফ কারামান আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, খাশোগির মাথায় প্লাস্টিকের ব্যাগ পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিন জানান, মৃত্যুর আগে খুনিদের উদ্দেশে খাশোগি বলছিলেন, ‘আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমার মাথা থেকে এ ব্যাগ সরাও, আমার বদ্ধতাভীতি আছে।’

সাংবাদিক কারামান যে অডিও’র বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন তুর্কি সরকার বলছে, সেটি দিয়ে প্রমাণ করা যাবে, গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোয়ান শনিবার (১০ নভেম্বর) জানিয়েছেন, ওই অডিও রেকর্ড সৌদি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেইলি সাবাহ’র সাংবাদিক কারামান আরও বলেছেন, শ্বাসরোধ হয়ে খাশোগির মৃত্যু হতে সাত মিনিট সময় লেগেছিল বলে ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে। কারামান তুর্কি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দাবি করেন, সৌদি আরব থেকে আসা ঘাতক বাহিনী খাশোগির মৃত্যুর পর ১৫ মিনিটের মধ্যে তার দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে।

তুর্কি তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, খাশোগির হাতে সর্বাধুনিক ‘অ্যাপেল ওয়াচ’ ছিল। আর এ ওয়াচের মাধ্যমে সৌদি কনস্যুলেটে তাকে নির্যাতন এবং হত্যার মুহূর্তের অডিও রেকর্ড তার ফোন এবং আইক্লাউডে পৌঁছে গিয়েছিল। এই ফোন ও আইক্লাউড তিনি কনস্যুলেটের বাইরে অপেক্ষমান তার বাগদত্তার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। এখন এসব রেকর্ড তার বাগদত্তার হাত থেকে তুর্কি তদন্তকারীদের কাছে পৌঁছেছে। শুরু থেকেই খাশোগিকে হত্যার একটি অডিও প্রমাণ হাতে থাকার দাবি করে আসছে তুরস্ক।