তেজগাঁও বিমানবন্দর যেন কেউ নিতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

তেজগাঁও বিমানবন্দরে নতুন ভিআইপি ভবন উদ্বোধন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : তেজগাঁও বিমানবন্দর যেন ‘বেহাত’ না হয়, সেজন্য বিমান বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এই এয়ারপোর্ট কোনো দিনই বন্ধ হবে না। এটা বিমান বাহিনীর, বিমান বাহিনীরই থাকবে।’

আজ শনিবার সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর নতুন ভিভিআইপি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটুকু সতর্ক করতে চাই যে, এটার ওপর অনেকের কিন্তু শ্যেন দৃষ্টি আছে। এটা যেন বেহাত না হয়, বিমান বাহিনী এটাকে সেভাবে ব্যবহার করবে। এটার আশপাশে উঁচু উঁচু বিল্ডিং বানাতে হবে- এই চিন্তা যেন সকলের মাথা থেকে চলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বিমান বাহিনীকে সতর্ক করেছি, এই জায়গা নেওয়ার জন্য সকলে কিন্তু হাত বাড়িয়ে বসে আছে। আমি যতদিন ক্ষমতায় আছি, আমি দেবই না।’

এ বিমানবন্দরের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কখনো যেনো এটা নিতে না পারে, সেজন্য এটার ব্যবহার বাড়াত হবে। মাঝে মাঝে এখান থেকে প্লেন চালাতে হবে। যেন সকলে জানে, এটা ব্যবহার হচ্ছে। আমি যখন থাকব না, তখন এসে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবে।’

ঢাকার মত শহরে দ্বিতীয় একটি বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই না যে এয়ারপোর্টটা নষ্ট হোক। ঢাকা শহরে আরেকটা এয়ারপোর্ট আমাদের একান্তভাবে দরকার। যেহেতু এটা আমাদের জন্য তৈরি করা আছেই; কেন আমরা এটাকে নষ্ট করব।’

বিমান বাহিনীর জন্য আরও জায়গা দরকার বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিমান বাহিনীর কলবের বৃদ্ধি করছি। আমরা ছোট দেশ। কিন্তু আমাদের কিছুই থাকবে না- এটা তো হতে পারে না। কারও দিকে তাকিয়ে তো বসে থাকব না।”

এ সময় এই বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর ‘চাপ’ আসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কর্ম কমিশনের অফিস করে দেওয়া হয়। নানা জায়গা থেকে চাপ আসতে থাকে,‘এই বিমানবন্দর রাখার দরকার কী?’ এই বিমানবন্দর যখন বিমান বাহিনীর হাতে তুলে দিই; তখনও আপত্তি ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিমানবন্দর থাকলে আশপাশে উঁচু দালান করা যায় না, সেজন্য এটা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। মেট্রোরেলের যে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়, এমনভাবে করা হয়েছিল, যেন এই বিমানবন্দর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।’

তখনকার বিমান বাহিনী প্রধানের ‘সহায়তায়’ মেট্রোরেলের পথ পরিবর্তন করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখান থেকে গেলে ২২টি বিল্ডিং ভাঙতে হত।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কেক কাটেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

পরে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকেই হেলিকপ্টারে চড়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।