একটি চিঠি এবং আমেরিকার মুসলিম ইতিহাস

‘আমার নাম মাহির আবদুর রাজ্জাক এবং আমি শেরোকি ব্ল্যাকফুট বংশীয় আমেরিকান ইন্ডিয়ান মুসলিম। আমি সবার কাছে ঈগল সান ওয়াকার হিসেবেই পরিচিত। নিউইয়র্কের ‘নর্থইস্টার্ন ব্যান্ড অব শেরোকি ইন্ডিয়ানস’-এ অর্গ্যান বাজানোর কাজ করি।

আমাদের এখানে আরও অনেক মুসলিম রয়েছে। তবে তাদের অধিকাংশই জানে না, আজ থেকে হাজার বছর আগে কয়েকজন মুসলিম পরিব্রাজক কীভাবে ইসলামকে আমেরিকায় বয়ে নিয়ে এসেছিলেন। যাদের অনেকেই পরবর্তীতে আমেরিকাতেই নিজেদের আবাস গড়ে নিয়েছিলেন এবং এখানেই সমাহিত হন।

বিজ্ঞাপন

মুসলিম বলুন বা অমুসলিম আমেরিকান, এ ধরনের ইতিহাসের ব্যাপারে কেউই অবগত নয়। আর এমন ইতিহাস কখনো কোনো ইতিহাস গ্রন্থেও উল্লেখ করা হয় না। এখানে অনেক দলিল, চুক্তিপত্র, সনদ, সত্যায়নপত্র রয়েছে যেগুলো ষোড়শ শতক থেকে অষ্টাদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে সম্পাদিত হয়েছিলো। এসব প্রামাণ্য দলিলগুলোতে চোখ বুলালেই বুঝা যায়, মুসলিমরা সে সময় নিজেদের কমিউনিটির মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণভাবে বসবাস করতেন।

একটি চুক্তিতে দেখা যায়, যেটি ডেলাওয়ার নদী বিষয়ে সম্পাদিত হয়েছিলো ১৭৮৭ সনে, সেখানে আবদুল খাক এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর স্বাক্ষর পরিলক্ষিত হয়।

এসব প্রামাণ্য দলিলগুলো সে সময়কার বাণিজ্য, নদীপথে পণ্য সরবরাহ, সরকার ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সম্পৃক্ততা ঘোষণা করে। বর্তমানে এসব দলিলাদি লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের জাতীয় আর্কাইভে রাখা আছে।

আপনার যদি কখনো দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের জাতীয় রেকর্ড ঘেঁটে দেখার সুযোগ হয়  তাহলে আপনি পড়তে পারেন ১৭৯০ সালে সম্পাদিত ‘মুরস (মুসলিম) সানড্রাই অ্যাক্ট’টি।

পরবর্তী কোনো চিঠিতে আমি আপনাদের জানাবো অনেক উপজাতি এবং ভাষা বিষয়ে, যেগুলো আরবি, ফার্সি বা হিব্রু শব্দ থেকে উদ্গত নয়তো প্রভাবিত। বিশেষত সব উপজাতীয় শব্দভাণ্ডারেই কিন্তু আল্লাহ শব্দের সংযোজন রয়েছে।

আমেরিকার ইন্ডিয়ান গোত্রগুলোতে মেয়েদের পোশাকের মধ্যে খিমা বা লম্বা জামার উপস্থিতিও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। পুরুষেরা অধিকাংশই মাথায় পাগড়ীজাতীয় পোশাক পরিধান করে এবং তাদের জামাও হয় হাঁটু অব্দি লম্বা।

১৮৩২ সালের আগ পর্যন্ত যেসব বই প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো যদি কখনো দেখার সুযোগ ঘটে তবে দেখতে পাবেন- পুরুষেরা পাগড়ী পরিহিত এবং নারীরা মাথায় লম্বা স্কার্ফ পরে আছে। শেরোকি সম্প্রদায়ের শেষ মুসলিম নেতা যিনি ছিলেন তার নাম ছিলো রমজান ইবনে ওয়াতি। এটা ১৮৬৬ সালের কথা।

আমেরিকা এবং কানাডার প্রতিটা শহরেই কোনো না কোনো ইসলামি শব্দ বা নাম পাবেন।

আপনি শুনে অবাক হবেন, Tallahassee নামে যে শহর আছে আমেরিকায়, এই শব্দের অর্থ কি আপনি জানেন? এর অর্থ-‘আল্লাহ ভবিষ্যতে তোমাকে প্রদান করবেন’। যা আরবি থেকে অপভ্রংশ হয়েছে।

[আমেরিকার The MESSAGE পত্রিকায় প্রকাশিত, জুলাই ১৯৯৬; ভাষান্তর: সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর]

বিজ্ঞাপন