দেয়ালিকা আঁকা থাকে স্বপ্নের রঙে

113

সাদ আবদুল্লাহ মামুন ।।  

হাতে লেখা সাহিত্যের নন্দনপত্র। সাহিত্য-সচেতন তরুণ ও নবীনদের ভালোবাসার ফুলকি। আজকের অনলাইন যুগেও দেয়ালিকার ধারা বন্ধ হয়নি। এখনো প্রকাশ হয় ভাষা ও সাহিত্য-সচেতন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। বিশেষ সময় ও বিষয়কে কেন্দ্র করে।

এক-একটি দেয়ালিকা একগুচ্ছ তারুণ্যের ভালোবাসার কড়চা। মন মাধুরীর নিপুণ বিন্যাস। দেয়ালিকা প্রকাশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একঝাঁক তারুণ্যের তুমুল আবেগ। অধীর আগ্রহ। আর নির্ঘুম রাত। তার পর একদিন দেয়ালে উদ্ভাস ঘটে দেয়াল পত্রিকার। সেদিন তাদের মুখেবুকে হাসি। স্বপ্নসাধ পূরণ হওয়ার চাপা উল্লাস।

স্কুল-কলেজে তো হয়ই, বাংলাদেশের মাদরাসাগুলোতেও মানসম্পন্ন দেয়ালিকা প্রকাশিত হয়। বিশেষ করে ঢাকার অধিকাংশ মাদরাসা থেকে, ঢাকার বাইরের বড় বড় মাদরাসাগুলোও এ থেকে পিছিয়ে নেই। কারো প্রকাশনা নিয়মিত, কারোটা অনিয়মিত। কেউ বছরে দুটি, কেউ বছরে তিনটি। কোনো কোনো মাদরাসায় শ্রেণিভিত্তিকও পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

দেয়াল পত্রিকার বেশিরভাগই প্রকাশ হয় বাংলায়। অনেকে এর সঙ্গে আরবি দেয়ালিকাও প্রকাশ করে। কোনো কোনো মাদরাসা ইংরেজি দেয়ালিকাও প্রকাশিত হয়। তবে এগুলোর সংখ্যা কম।

দেয়ালিকা প্রকাশে খরচের একটা বিষয় থাকে। সুন্দর করে করলে মোটামুটি ভালো একটা খরচ হয়। এসব খরচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাত্ররাই সানন্দে বহন করে। আবার কখনো প্রতিষ্ঠান খরচ বহন করে। কোনো কোনো জায়গায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষই খরচ য়োগায়।

দেয়ালিকাগুলো সাধারণত আগ্রহী ছাত্ররা বা ছাত্র কাফেলা প্রকাশ করে থাকে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এক-দুজন শিক্ষকও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। বাকি পুরো কাজটা ছাত্ররাই করে থাকে।

দেয়ালিকা তরুণদের অন্যরকম এক স্বপ্নের ভুবন। বহু কিশোর ও নবীনের লেখার হাতেখড়ি হয় দেয়ালিকার মাধ্যমে। এ সময়টায় তারা স্বপ্নের ঘোরে থাকে। তাদের কেউ কেউ তখন ভালোবাসার চাপে পড়েও লেখে। শখের বসে তো লেখেই। পরবর্তী সময়ে কেউ লেখাকে বিদায় জানায়। আর কারো জীবনে লেখালেখি পেশা ও নেশায় পরিণত হয়। কিন্তু জীবনে সৃজন ও প্রতিভার বীজটা বপন হয়ে যায়।

দেয়ালিকা থেকে জন্ম নেয় আগামী দিনের সম্ভাবনা। আজকে যারা লেখক-সাহিত্যিক কিংবা সম্পাদক-সাংবাদিক; তাদের অনেকের কলমনবিশির সূচনা দেয়াল পত্রিকায়। ছাত্রজীবনের সেই দেয়ালিকাই আজকে তাদের এ পথে আসতে এবং এতটা পথ হাঁটতে স্বপ্ন-সাহস যুগিয়েছে।

আবার কারো কারো ছাত্রজীবনে দেয়ালিকায় দু-চারটি লেখা জমা দেওয়া, কাঁটাছেড়া লেখা ঠিক করা, বানানের সন্দেহ কাটাতে অভিধান ঘাটাঘাটি করা, দেয়ালিকা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত থাকা পরবর্তী জীবনে পড়া ও লেখার প্রতি প্রেম সৃষ্টি করেছে।

মাদরাসার দেয়ালিকা নবীনদের লিখতে শেখায়। অবদান রাখে ইসলামি সাহিত্যচর্চা ও বিকাশে। তাই দেয়ালিকা বেঁচে থাকুক স্বপ্নের আঁকিবুকি বুকে নিয়ে। নবীনেরা তাকে ভালোবাসা দিয়ে জাগিয়ে রাখুক হৃদয়ের দেয়ালে দেয়ালে।