খাশোগি ডিল : সৌদির ১০০ মিলিয়ন ডলারে ট্রাম্পের সুর নরম

18

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে সৌদি আরব। সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যাঘটনার উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎই এই অর্থ পরিশোধের ঘটনা ঘটল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যখন সৌদি আরব সফর করছিলেন, তখনই এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এমনই খবরই দিয়েছে তুরস্কের স্থানীয় সংবাদপত্র  ডেইলি সাবাহ।

তবে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে আমেরিকাকে সহায়তার জন্য গত আগস্টে সৌদি আরব এ অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ অর্থ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এর দু দিন আগে জামাল খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা করতে মাইক পম্পেও সৌদি আরব আসেন। তার সফরের পরপরই এই বিশাল অর্থের লেনদেন অনেকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।

দুদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেখা করেন যুবরাজ মুহাম্মদের সাথে

অবশ্য গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  বলেছিলেন, নিখোঁজ জামাল খাশোগি যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকেন তাহলে যেই তার সাথে জড়িত থাকুক তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

কিন্তু আজ হঠাৎ করেই ট্রাম্পের সুর পাল্টে গেছে। এখন তিনি বলছেন, খাশোগি বিষয়ে সৌদি আরবকে এখনই দায়ী করা যাবে না। দুর্বৃত্তের হাতেও তিনি নিহত হতে পারেন।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, জামাল খাশোগির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছিল এই অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তা অনেকটা স্বাভাবিক হবে।

বার্তা সংস্থা এপি’কে দেয়া সাক্ষাতকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘কোনো কিছু প্রমাণ না হওয়ার আগে সৌদি আরবকে দোষারোপ করা হচ্ছে।’

খাশোগি নিখোঁজের পর ট্রাম্প এ ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর ও বর্বর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বলছেন, সৌদি সাংবাদিক নিখোঁজের বিষয়ে পুরোপুরি না জানা পর্যন্ত দেশটির নেতাদের এ নিয়ে দোষারোপ করা উচিত নয় বিশ্ববাসীর।

গতকাল (১৬ অক্টোবর) রাতে ট্রাম্প টুইট বার্তায় জানান প্রিন্স মোহাম্মদের সাথে তার কথা হয়েছে এবং বলেন, ‘তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে আসলে কী ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো কিছু জানার কথা তিনি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তার কথা শুনে মনে হয়েছে কোনো দুর্বৃত্ত এর সাথে জড়িত থাকতে পারে।’

এদিকে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে এরই মধ্যে তল্লাশি হয়েছে। আরো ব্যাপক পরিসরে তল্লাশির উদ্যোগ নিচ্ছে তুরস্ক। সৌদি আরব সোমবার ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আর যৌথ তদন্তের উদ্যোগ নেয়ার কারণে তদন্ত কাজ শেষ হতে আরো একটু সময় লাগতে পারে জানাচ্ছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা।

ইতোমধ্যে তুরস্কের গণমাধ্যমে কিছু সিসিটিভি ফুটেজ প্রচারিত হয়েছে, যাতে সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী ও সাংবাদিক খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ওই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, ইস্তাম্বুলের বিমান বন্দর দিয়ে কথিত সৌদি গোয়েন্দারা ঢুকছে এবং বের হয়ে যাচ্ছে।

সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, কতগুলো গাড়ি সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর ঢুকছে। এর মধ্যে কালো রঙের একটি ভ্যান সম্পর্কে তুর্কী কর্তৃপক্ষ জানতে খুবই আগ্রহী। ভিডিওতে আরো দেখা যাচ্ছে, একদল সৌদি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে দিয়ে প্রবেশ করছে, হোটেলে চেক-ইন করছে এবং কয়েক ঘণ্টা পরে সে দেশ ত্যাগ করছে।

পুলিশ এখন প্রায় ১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করে দেখছে। তুরস্ক বলছে, তারা সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি চালাবে। অন্যদিকে, সৌদি আরব বলছে যে কোনো তদন্তের সাথে তারা সহযোগিতা করবে।

কিন্তু তুর্কি সরকার দাবি করছে, খাশোগি যে কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন সৌদি সরকারকেই সেটা প্রমাণ করতে হবে।