পুরনো একলা বাড়ি : প্রাণের গন্ধে সজীব

65

আবু তাশরীফ ।।  

মহানগরীর কোণা কাঞ্চিতে তারা পড়ে আছে। হঠাৎ চোখ যায়। চোখ আটকে থাকে। এখনও এমন নীরব ছায়াঘেরা বাড়ি আছে! এই ঢাকা শহরের মধ্যে!! পুরনো ধাঁচের একতলা-দোতলা। বড় বারান্দা, দো-পাল্লার দরজা। ঘাসের মাঠ, সবুজের বুক। প্রাচীন প্রাণের গন্ধ। থেমে যেতে মন চায়। থেকে যেতে মন চায়।

শ্যাওলাধরা একলা বাড়ি

গাছপালাওয়ালা পুরনো একতলা বাড়ির কথা তো এখন আর মনে থাকার কথাই নয়। চারদিকে এখন উঁচু দালান। পুরনো ঢিলেঢালা বাড়িগুলো উধাও। জায়গা কাজে লাগাতে হবে না! টাইটফিট বহুতল ভবন। অল্প জায়গায় বহু পরিবারের বাস। চাঞ্চল্য, কোলাহল, গতি আর ধুপধাপ প্রাচুর্য। অলস দুপুরের মতো লাজুক লাজুক বাড়ি এই মহানগরীতে কোথায় থাকবে! থাকার কথা তো নয়।

অথচ এখনো পুরনো প্রাণের গন্ধ নিয়ে হঠাৎ হঠাৎ কিছু বাড়ি চোখে পড়ে। তখন স্মৃতি আর অনুভব থমকে যায়, উল্টে যায়। ঢাকা মহানগরীর নানা প্রান্তেই একলা পথিকের মতো কিছু বাড়ি আছে। পল্লবী, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, পুরানা পল্টন, ধানমন্ডির আশেপাশে। বিভাগীয় শহর ও মফস্বলের নানান পাঁজরে। সাদা ছিমছাম। মধ্যবয়সী বাড়ি। পলেস্তরা ঝরে পড়তে থাকা বৃদ্ধ বাড়ি। গোছগাছ পড়ন্ত যৌবনেরও কিছু বাড়ি আছে। বড় বড় থাম, ফাঁকা রেলিং আর সিঁড়ি বাওয়া বারান্দা। জীবনের অন্যরকম ঘ্রাণ ছড়িয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।

এখনো ডেভেলপারের সঙ্গে দরদাম হয়নি। বাড়ির পুরনো মায়াটা ছেড়ে দেওয়া যায়নি। দেশে হয়তো এখন আর এ বাড়ির কেউ থাকে না। ঋণ ধার-দেনায় বাড়িটা ভেঙ্গে ফেলার সুযোগই পাওয়া যাচ্ছে না। কত কারণই তো থাকতে পারে। কিন্তু সেইসব কারণের ফাঁক ধরেই এই শান্ত অতীত-ছবি মহানগরীর বুকে টিকে আছে। বড় মায়াধরা। বড় স্মৃতিকাড়া! জাদুর মতো বয়স ও সময় পিছে নিয়ে যায় এসব বাড়ি।

গাছপাতার আড়ালে সবুজ স্মৃতি

কতদিন আর থাকবে এরা! প্রাচুর্য আর কোলাহলের হাতুড়ি কবে যে শেষ করে দেবে! নগর-আবাসনের বাস্তবতা কয় দিন এদের একলা মাথাগুঁজে পড়ে থাকতে দেবে! ভাবলেই মনটা মনমরা হয়ে যায়। পুরনো একলা বাড়ি, তুমি থেকে যাও আরো দিন। আমরা দু চোখ ভরে অতীতে যেতে চাই। তোমার দেয়ালে আমাদের স্মৃতির দেয়ালিকা দেখতে চাই।